নিউ ইয়র্ক: ফুটবল বিশ্বকাপেও বয়কটের হুমকি। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শায়েস্তা করতে একাধিক দেশ এমন কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে। জার্মানি তো প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মুখও খুলেছে। শোনা যাচ্ছে, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড সহ আরও একাধিক দেশের ফেডারেশনে এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মেক্সিকো, কানাডার সঙ্গে এবার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে আমেরিকা। আগামী ১২ জুন মেগা আসরে বল গড়াবে। তার আগে ট্রাম্পের আগ্রাসনে উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি। আসলে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে নজর পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যে কোনও মূল্যে তা দখল করতে চান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বিরোধিতা করা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একাধিক দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে নরওয়ে, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে জায়গা পাকা করেছে। এছাড়া যোগ্যতা অর্জনের প্লে-অফে খেলবে ডেনমার্ক, সুইডেন ও আয়ারল্যান্ড। প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের অন্যতম কর্তা ওকে গটলিশ। তিনি বলেন, ‘আটের দশকে ওলিম্পিকস বয়কটের যুক্তিগুলো কী ছিল? ২০১৮ কাতার বিশ্বকাপের সময়ও অনেকে রাজনৈতিক কারণ খুঁজছিল। আমার মনে হয়, সেসবের থেকেও এখন বড় সঙ্কট। আমেরিকায় বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে জার্মানির ভাবা উচিত।’ তাছাড়া ডেনমার্ক ‘ন্যাটো’র সদস্য। সংস্থার ৫ নম্বর ধারায় পরিষ্কার উল্লেখ রয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলির কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে, তা সমগ্র ন্যাটো গোষ্ঠীর উপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। ডেনমার্কও ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের গ্রিনল্যান্ডে নজর দিলে ছেড়ে কথা বলবে না।
শুধু গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নয়, আমেরিকার উপর আরও একাধিক বিষয়ে ক্ষুব্ধ ফুটবল বিশ্ব। তার মধ্যে অন্যতম টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম। তাছাড়া মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করেছে আমেরিকা। পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি ভিসার জন্য ছাড় দেওয়ার ঘোষণা হলেও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমের খবর, রাজনৈতিক কারণে ব্রাজিলের সমর্থকদের নাকি ছাড় দেওয়া হবে না। ফলে সাম্বা সমর্থকদের বিশ্বকাপে নাও দেখা যেতে পারে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসনের রাজনীতির আঁচ বিশ্বকাপে প্রকট। এমন পরিস্থিতিতে কোনও দেশ সত্যিই আসন্ন মেগা আসর বয়কট করলে শুধু আমেরিকার নয়, মুখ পুড়বে ফিফা’রও।



