সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর কাশীপুর যোগমায়া সরোবর নাম পরিবর্তন করে ফের রঞ্জনডি জলাধার করা হয়েছে। পর্যটন মানচিত্রে এই জলাধার একসময় ‘পুরুলিয়ার সুন্দরবন’ বলে পরিচিত ছিল। নাম পরিবর্তন করে আবার নতুন করে সেজে ওঠার আশায় এখন খবরের শিরোনামে রঞ্জনডি জলাধার।
কাশীপুরের বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, এই পর্যটন কেন্দ্রকে নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত সমিতির তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা গেস্ট হাউসের টেন্ডার প্রক্রিয়ার মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হচ্ছে। তারপর নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে। এই এলাকা সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি বোটিং করার ব্যবস্থা করা হবে। পানীয় জল এবং শৌচালয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাশীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের স্বপন বেলথরিয়ার আমলে তাঁর মায়ের নামে এই জলাধারের নাম ‘যোগমায়া সরোবর’ করা হয়েছিল। সরকারি বোর্ড, প্রচার পুস্তিকায় সেই নামই জ্বলজ্বল করত। স্থানীয় মানুষও ধীরে ধীরে রঞ্জনডি ভুলে যোগমায়া সরোবর নামেই চিনতে শুরু করেছিল। সেই সময় বিজেপি নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছিল। রাজ্যে পট পরিবর্তনের পরেই ছবি আমূল বদলে গিয়েছে। বিজেপি সরকার যোগমায়া সরোবরের নাম মুছে সরকারি নথি এবং সাইনবোর্ডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পুরনো নাম ‘রঞ্জনডি জলাধার’।
উল্লেখ্য, একসময় শীতের মরশুমে পিকনিক আর বর্ষায় ভরা জলাধারের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমাতেন। জলের মধ্যে মাথা তুলে থাকা গাছ, চারিদিকে সবুজের সমারোহের জন্যই নাম হয়েছিল ‘পুরুলিয়ার সুন্দরবন’। কিন্তু, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে রঞ্জনডি জলাধার জৌলুস হারিয়েছে।
দুর্গাপুজোর সময় ঘুরতে আসা পর্যটক চিত্রা মুখোপাধ্যায়, সায়ন চক্রবর্তী বলেন, পুজোর চারদিন কাশীপুর রাজবাড়ি খোলা থাকে। তাই আমরা কেউ বাঁকুড়া, কেউ আসানসোল, দুর্গাপুর থেকে রাজবাড়ি দেখতে এসেছিলাম। শুনেছিলাম এখানে রঞ্জনডি ড্যাম রয়েছে। তাই ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু, এখানে এসে হতাশ হয়েছি। গেস্ট হাউস ও টয়লেট তালা বন্ধ ছিল। আশেপাশে কোনো দোকান নেই। নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল। সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র নজরদারির অভাবে নষ্ট হতে বসেছে।
বিজেপি জেলা কমিটির সদস্য স্বপন চৌধুরী বলেন, রঞ্জনডি জলাধারের নাম প্রাক্তন বিধায়ক তাঁর মায়ের নামে করার সময় প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। সেই সময় বনদপ্তরের জায়গাও জলাধারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ একরের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা এই জলাধারের টেন্ডার জেলা পরিষদ থেকেই হয়। কিন্তু, এক্ষেত্রে তা হয়নি। আমাদের সরকার সমস্ত সরকারি নিয়ম, নীতি মেনেই নতুন করে জলাধার সাজিয়ে তুলবে।
প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, জলাধার সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার, পর্যটকদের জন্য বসার জায়গা, ওয়াচ টাওয়ার ও লাইটের ব্যবস্থা, পার্ক ও শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। উন্নয়ন, সৌন্দর্যায়ন ও নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। রঞ্জনডি জলাধার আগামী দিনে পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে।



