Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬

ইস্তফা দিন, হরিদ্বারের বৈঠক থেকেই চম্পতের উপর চাপ বাড়ায় ভিএইচপি, রামালয় ট্রাস্ট ও শ্রীরাম জন্মভূমি কনস্ট্রাকশন কমিটিকেও তদন্তের অধীনে আনার দাবি

ইস্তফা দিন, হরিদ্বারের বৈঠক থেকেই চম্পতের উপর চাপ বাড়ায় ভিএইচপি, রামালয় ট্রাস্ট ও শ্রীরাম জন্মভূমি কনস্ট্রাকশন কমিটিকেও তদন্তের অধীনে আনার দাবি
  • ২৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ ও অযোধ্যা: সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই ও সদস্য অনিল মিশ্রর ইস্তফাদানের সত্যতা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিল শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি এদিন ট্রাস্টের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘রামমন্দিরের দানচুরি সংক্রান্ত সব অভিযোগ নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হবে। রাই ও মিশ্রের ইস্তফাপত্র ট্রাস্ট গ্রহণ করেছে। এবিষয়ে ট্রাস্টের আসন্ন বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ আর্থিক অনিয়মের একের পর এক অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক বাড়তে থাকায় হরিদ্বারে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি বৈঠক থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চম্পতের উপর চাপ বৃদ্ধি করা হয়েছিল বলে খবর। সূত্রের খবর, গত ১৮ ও ১৯ জুন ওই বৈঠক হয়েছিল। সেখানে যোগ দিতে অযোধ্যা থেকে হরিদ্বার গিয়েছিলেন চম্পত ও তাঁর ঘনিষ্ঠ গোপাল রাও।

Advertisement

ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত নিজেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রবীণ নেতা। রামমন্দিরে দানচুরির ইস্যুতে তাঁর ভূমিকাও আতশকাচের নীচে চলে আসায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিড়ম্বনা বাড়তে থাকে। সূত্রের খবর, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বুঝেই সংগঠনের তরফে হরিদ্বারে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আর্থিক অনিয়মের যাবতীয় অভিযোগ নিয়ে চম্পত রাই ও গোপাল রাওয়ের কাছে ব্যাখ্যা চান স্বয়ং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে। আরও জানা গিয়েছে, হরিদ্বারের ওই বৈঠকেই বহু সাধুসন্ত দাবি তুলেছেন, তদন্তের পরিধি শুধুমাত্র শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের মধ্যে সীমাবন্ধ রাখলে চলবে না। স্বামী স্বরূপানন্দ সরস্বতী প্রতিষ্ঠিত রামালয় ট্রাস্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আসার আগে পর্যন্ত নির্মাণকাজের দায়িত্ব সামলানো শ্রীরাম জন্মভূমি কনস্ট্রাকশন কমিটির অ্যাকাউন্ট ও খরচ সংক্রান্ত লেনদেনও তদন্তের অধীনে আসা উচিত। হরিদ্বারের বৈঠকের পরই চম্পতের উপর বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে প্রবল চাপবৃদ্ধি করা হয়। সংগঠনের অন্যান্য প্রবীণ নেতারা তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন। এমনকি ১৯ জুন অযোধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কর্মসূচিতে পর্যন্ত চম্পতকে থাকতে দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতভর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও আরএসএসের প্রবীণ নেতাদের ফোন আসতে থাকে চম্পতের কাছে। তাঁদের পরামর্শ ছিল, বিতর্ক থামাতে গেলে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আর অন্য কোনো রাস্তা নেই। পাহাড়প্রমাণ চাপের মুখে পড়েই শুক্রবার বেলা ১১টা নানাদ ট্রাস্টের সভাপতি নৃত্যগোপাল দাসের কাছে ইস্তফাপত্র পেশ করতে বাধ্য হন চম্পত ও অনিল মিশ্র। 
রামমন্দিরে দানচুরির অভিযোগে সাধুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ২৬ জুন অযোধ্যায় তাদের চার দিনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির বৈঠকও স্থগিত করে দেয়। বৈঠকটি করসেবকপুরমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেখানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ৪৪টি প্রদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। দানচুরির অভিযোগে ট্রাস্টের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে জমি-বাড়ি-রিসর্ট সহ বিস্তর সম্পত্তি বাগানোর অভিযোগও সামনে আসছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে অনুকল্প মিশ্র নামে এক ব্যক্তি। অনুকল্পের পরিবার দু’বছর আগে অযোধ্যায় ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বাড়িও কিনেছিল বলে অভিযোগ। যদিও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে মুখ খুলতে নারাজ ধৃতের পরিবার। অনুকল্পের বোনের দাবি, দাদাকে ফাঁসানো হয়েছে। তাহলে কি ধৃতরা সত্যিই ‘চুনোপুঁটি’? প্রকৃত ‘রাঘববোয়াল’রা এখনও অধরা? কংগ্রেস, আপ ও সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলি সেই অভিযোগই তুলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ