Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৌশিকী অমাবস্যায় শিয়ালদহ, দেওঘর ও উত্তরবঙ্গ থেকে স্পেশাল ট্রেনের দাবি

সামনেই তারাপীঠের সবচেয়ে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক, ভক্ত, সাধক মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে এই তিথিতে।

কৌশিকী অমাবস্যায় শিয়ালদহ, দেওঘর ও উত্তরবঙ্গ থেকে স্পেশাল ট্রেনের দাবি
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সামনেই তারাপীঠের সবচেয়ে বড় উৎসব কৌশিকী অমাবস্যা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক, ভক্ত, সাধক মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে এই তিথিতে। আগামী শুক্রবার সকাল ১১টা ৫৫মিনিট থেকে শুরু হয়ে তিথি থাকবে শনিবার ১১টা ২২মিনিট পর্যন্ত। পরের দিন ররিবার ছুটি। প্রশাসনের দাবি, এবার পাঁচ লক্ষের বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে। কয়েক বছর ধরে এই তিথিতে হাওড়া থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত একটি স্পেশাল ট্রেন চালায় পূর্ব রেল। কিন্তু এবার শুধু হাওড়া থেকে নয়, শিয়ালদহ, দেওঘর ও উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত চারটি স্পেশাল ট্রেন চালানোর দাবি তুলল মন্দির কমিটি। তাঁদের পক্ষ থেকে বিষয়টি রেল কর্তাদের জানানো হয়েছে। সাংসদ শতাব্দী রায়ও এই তিথিতে একাধিক স্পেশাল ট্রেন চেয়ে হাওড়ার ডিআরএমের কাছে আবেদন করেছেন। মন্দির কমিটির মতে, পর্যটকদের সুবিধার জন্যই এই আবেদন। সেইসঙ্গে রেলেরও আয় বাড়বে।

Advertisement

কৌশিকী অমাবস্যায় অধিকাংশ পুণ্যার্থী রেলপথে তারাপীঠে আসেন। গত দু’বছরের তথ্য অনুযায়ী সাড়ে তিন-চার লক্ষ পুণ্যার্থী রেলপথে এসেছিলেন। সেক্ষেত্রে রেলের মোটা অঙ্কের আয় হয়েছিল। যাত্রীদের সুবিধার্থে সাত বছর ধরে এই তিথিতে একটি স্পেশাল ট্রেনও চালিয়ে আসছে রেল। যদিও সেই ট্রেনটি হাওড়া থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত চলাচল করে। যা পর্যাপ্ত নয়। মন্দির কমিটির মতে, রেল বিগত কয়েক বছরের হিসেব বের করলেই বুঝতে পারবে কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে কত সংখ্যক পুণ্যার্থী আসেন। অনেকে এই তিথিতে আসার জন্য অগ্রিম টিকিট বুক করে রাখেন। ফলে যাঁরা পরে টিকিট বুক করতে যান তাঁরা সমস্যায় পড়েন। তারাপীঠে আসার ক্ষেত্রে হয়রানির মুখে পড়তে হয় বহু পর্যটককে। তাই এবার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তাঁরা। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, কৌশিকী অমাবস্যায় কয়েক লক্ষ পর্যটক আসেন। অধিকাংশই ট্রেনে আসেন। হাওড়া থেকে একটিমাত্র স্পেশাল ট্রেন যথেষ্ট নয়। ৪০শতাংশ পর্যটক ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে আসেন। তীর্থভূমিতে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। আবার অসম, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ২০শতাংশ পর্যটক আসেন। রেল ছাড়া উপায় নেই। 
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার অনেক যাত্রীর শিয়ালদহ থেকে যাতায়াতে সুবিধা হয়। কিন্তু তাঁদের কথা ভাবছে না রেল। রামপুরহাটে টিকিট কাউন্টার বাড়ছে। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে না। করোনা কাল থেকে একাধিক ট্রেন বন্ধ। তাই কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে  শিলিগুড়ি, দেওঘর  এবং শিয়ালদহ থেকে একটি করে স্পেশাল ট্রেন চালানো উচিত রেলের। 
সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, কৌশিকী অমাবস্যায় যেহারে পর্যটক আসেন তাতে রামপুরহাট পর্যন্ত একাধিক ট্রেন চালানোর জন্য ডিআরএমকে বলা হয়েছে। সেবাইতরা বলেন, অনেকের এই সময় তারাপীঠে আসার ইচ্ছে থাকলেও ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় আসতে পারেন না। বিভিন্ন দিক থেকে স্পেশাল ট্রেন চললে অনেকেই দেবীর কাছে পুজো দিতে আসতে পারবেন। লজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, কৌশিকী অমাবস্যায় আসার জন্য হোটেল বুকিং অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তাতেই মনে হচ্ছে এবার যাত্রী সমাগম অন্যান্য বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়বে। পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, এব্যাপারে ডিআরএম সাহেব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ