


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: অপারেশন সিন্দুরের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়। পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। এরপর থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু করে তারা। এরফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে এসে পড়ে পাক সেনার একের পর এক গোলা। এই ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তে পাকিস্তানের এই গুলিবৃষ্টির উপযুক্ত জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের রক্ষা করতে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় প্রশাসন। পুঞ্চ, রাজৌরি, কুপওয়ারার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতির পর গোলাগুলি থেমেছে। এরইমধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে জোরাল হয়ে উঠেছে আরও বেশি বাঙ্কার তৈরির দাবি। সীমান্ত সংগল্ন গ্রামগুলিতে রয়েছে কমিউনিটি বাঙ্কার। এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
থাজ্জল গ্রামের বাসিন্দা হাজি গোলাম মহম্মদ বলেন, সীমান্তে গোলাগুলির চললে আমাদের প্রাণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু থেকে বয়স্ক, সবাই প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রমের খোঁজে বেরিয়ে পড়ি। কেউ কেউ পুরনো বাঙ্কারগুলিতে আশ্রয় নেন। সেখানে জায়গা কম হওয়ায় সবাই থাকতে পারেন না। তাঁদেরকে অন্য জেলায় চলে যেতে হয়। বর্তমানে সীমান্তের জেলাগুলিতে সবমিলিয়ে এধরনের ৮ হাজার বাঙ্কার রয়েছে। কিন্তু সেগুলি জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম। গ্রামের ১০০ বাসিন্দার জন্য কমপক্ষে দু’টি বাঙ্কার তৈরির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাজৌরির স্কুল শিক্ষক শাকিল আহমেদ বলেন, সীমান্তে গোলাগুলি শুরুই হলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তখনই আমরা নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। তাই সীমান্তবর্তী প্রতিটি পঞ্চায়েত, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করা প্রয়োজন। পুঞ্চে পাক গোলায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনিও সীমান্তে আরও বেশি বাঙ্কার তৈরির উপর জোর দিয়েছেন।