নয়াদিল্লি: প্রবল গরমে জল সংকটের আঁচ পৌঁছল রাজধানীতেও। দক্ষিণ দিল্লির গুলমোহর পার্ক এলাকার বাসিন্দারা পানীয় জলের কারণে বিষক্রিয়ার অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সমস্যার জেরে বহু বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর। আর এই ঘটনা উসকে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের পানীয় জল সংকটের স্মৃতি। গত জানুয়ারিতে পানীয় জলে দূষণের জেরে সেখানে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে দিনের পর দিন হাসপাতালে কাটিয়েছেন শতাধিক বাসিন্দা। মূলত ইন্দোর শহরের ভগীরথপুরা এলাকায় সমস্যা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। চলতি গ্রীষ্মের মরশুমে ইন্দোরেও জলের অভাবের অভিযোগ উঠেছে। এবার রাজধানীর গুলমোহর পার্কের ঘটনা ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়াল।
তীব্র গরমে যমুনা নদীর জলস্তর কমে গিয়েছে প্রায় ছ’ফুট। শহরের বিস্তীর্ণ অংশে জল সরবরাহের পরিমান অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে দিল্লি জল বোর্ড (ডিজেবি)। তাতে সমস্যা আরও বেড়েছে। গুলমোহর পার্কের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রথমে কয়েকটি লেনে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দূষিত জলের সমস্যা গোটা কলোনির বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার পাইপলাইনের জল ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। ডিজেবি, বেসরকারি ট্যাঙ্কার এবং বোতলবন্দি জলের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। সেখানেও সমস্যা। বাসিন্দাদের দাবি, ডিজেবি বিনামূল্যে পরিষেবা দিলেও বেসরকারি সরবরাহকারীরা প্রতি ট্যাঙ্কারের জন্য প্রায় ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। যদিও কর্তৃপক্ষ গুলমোহর পার্কের গেট নম্বর ২-সহ একাধিক এলাকায় সম্ভাব্য দূষণের উৎস খুঁজতে পরিদর্শন চালিয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক তথা ডিজেবির সহ-সভাপতি সতীশ উপাধ্যায় জানান, নির্মাণকাজের সময় তৈরি হওয়া অবৈধ অস্থায়ী শৌচাগার এবং গেট ২-এর কাছে নিকাশিনালার পাশের পুরনো পাইপলাইনের ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ দূষণের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। জল সংকটের কারণে অনেক পরিবার ভূগর্ভস্থ জলাধার খালি করে দিয়েছে অথবা ডিজেবির সংযোগ বন্ধ রেখেছে। ফলে ট্যাঙ্কারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (আরডব্লিউএ) সহ-সভাপতি জানান, ট্যাঙ্কারের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রোস্টার তৈরি করতে হয়েছে। বর্তমানে একটি পরিবারকে ট্যাঙ্কারের জল পেতে অন্তত দু’দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গুলমোহর পার্কের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। পাইপ মেরামতির কাজ চলছে। ছবি: সমাজমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত