Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রায় ৮ বছরের আইনি লড়াই, আদালতের নির্দেশের পরেও বিমার টাকা দিতে গড়িমসি

কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে সংসারের নিরাপত্তার কথা ভেবে বছরের পর বছর মেডিক্লেমের প্রিমিয়াম দিয়েছিলেন।

প্রায় ৮ বছরের আইনি লড়াই, আদালতের নির্দেশের পরেও বিমার টাকা দিতে গড়িমসি
  • ১২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে সংসারের নিরাপত্তার কথা ভেবে বছরের পর বছর মেডিক্লেমের প্রিমিয়াম দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন অসময়ে কাজে দেবে। অথচ স্ত্রী অসুস্থ হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়তেই সেই বিমার টাকা দাবি করে বিপাকে পড়তে হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীকে। কিন্তু নানা অজুহাতে টাকা না দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বৃদ্ধ। প্রায় আট বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে আদালত বিমার টাকা সুদসহ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশের পরেও কেটে গিয়েছে প্রায় ন’মাস। এখনও হাতে আসেনি প্রাপ্য টাকা। এবার সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থার বিরুদ্ধে ফের আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বৃদ্ধ।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালে। হাওড়ার বাগনানের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী অসিত সরকার সস্ত্রীক একটি নামী বিমা সংস্থার মেডিক্লেম করেন। নিয়মিত প্রিমিয়ামও জমা দিয়ে আসছিলেন তিনি। সেই বছর সেপ্টেম্বর মাসে অসিতবাবুর স্ত্রী রেনু সরকার হাঁটুর যন্ত্রণায় কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি হন। পরীক্ষার পর তাঁর অস্টিও আর্থ্রারাইটিস ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য খরচ হয় ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। সেই টাকা বিমা সংস্থার কাছে দাবি করেন অসিতবাবু। অভিযোগ, নানা কারণ দেখিয়ে আবেদন খারিজ করে দেয় সংস্থা। যদিও স্ত্রীর অস্ত্রোপচার থেমে থাকেনি। বাধ্য হয়ে আত্মীয় পরিজন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করেন অসিতবাবু। এরপরই বিমা সংস্থার বিরুদ্ধে হাওড়া জেলা কনজিউমার ফোরামে মামলা করেন তিনি। দীর্ঘ আট বছর ধরে চলে মামলা। অবশেষে গত বছরের ৬ নভেম্বর আদালত বিমা সংস্থাকে অসিতবাবুর অস্ত্রোপচারের পুরো খরচ ফেরতের নির্দেশ দেয়। ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক ৯ শতাংশ সরল সুদসহ ৪ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা এবং মামলা চালানোর খরচ বাবদ আরও ৬ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অসিতবাবুর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পর ন’মাস কেটে গেলেও টাকা পাননি তিনি। তাই এবার হাওড়া জেলা কনজিউমার ফোরামে সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করতে চলেছেন তিনি। হাওড়া আদালতের আইনজীবী সৌমেন সেন বলেন, ‘মানুষ তাঁদের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে মেডিক্লেম করান। কিন্তু বিপদের সময় এই কোম্পানিগুলো সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করে। সেই জন্যই হাওড়া ফোরাম কোর্ট দৃষ্টান্তমূলক নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ