Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ওঝার ‘ঝাড়ফুক’, হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু দেগঙ্গার ছাত্রীর

দেগঙ্গার ১৭ বছরের ছাত্রীর মৃত্যু ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়ার কারণে। সাপে কাটার আশঙ্কা থাকলেও হাসপাতালে দেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্তারিত পড়ুন।

ওঝার ‘ঝাড়ফুক’, হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু দেগঙ্গার ছাত্রীর
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ঘুমের মধ্যে হাতে কামড়েছিল ‘বিষাক্ত’ প্রাণী। সকালে পরিবারের সদস্যদের তা জানালেও হাসপাতালে নয়, নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার কাছে। ঝাড়ফুঁক চলে কয়েক দিন। এরই মধ্যে দ্রুত অবনতি হতে থাকে শারীরিক অবস্থার। শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ার পর তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভরতি করা হলেও শেষরক্ষা হল না। মৃত্যু হল উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রীর। ঘটনায় সামনে এল কুসংস্কারে ভরসা করে চিকিৎসায় দেরি করার বিপজ্জনক পরিণতি। মৃত ছাত্রীর নাম রাইমা খাতুন (১৭)। কিশোরী দেগঙ্গার হাসিয়া মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা। ভাসলিয়ার হাইস্কুলের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী। শুক্রবার ভোররাতে বারাসত জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাত্রীর দেহ গ্রামে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনমজুর ওহিদুল ইসলামের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ছোটো ছিলেন রাইমা। গত সোমবার ভোররাতে ঘুমের মধ্যে তাঁর ডান হাতের কবজিতে কোনো একটি প্রাণী কামড়ায়। সকালে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার বিকেলের পর থেকে রাইমার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। শরীর নীলচে হয়ে যাওয়ায় তাঁকে দ্রুত বারাসত জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, শুরুতে যদি সাপে কাটার আশঙ্কা ধরে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যেত, তাহলে মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ