


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: শহরাঞ্চলের মহিলা বা ‘আরবান উইমেন’-দের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ মোদি সরকার। সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রের রিপোর্টেই সামনে এসেছে এই চিত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শহরাঞ্চলে মহিলাদের মধ্যে বেকারত্ব বৃদ্ধি হয়েছে ৯.৭৫ শতাংশ। দেশের গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের কাজ পাওয়ার চিত্রটাও খুব একটা আশাপ্রদ নয়। সেখানেও চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসে গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল মহিলা বেকারত্বের হার। তবে শহর হোক বা গ্রাম, উভয় ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য কাজের সুযোগে তৈরির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী জায়গায় রয়েছে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে সার্বিকভাবে মহিলাদের বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম।
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রকের পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে। এই সমীক্ষা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি এবং নীতি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। একাধিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায়। কিন্তু ১ লক্ষ ২৭ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নেওয়া ইন্টার্নশিপ স্কিমের ব্যর্থতা সম্পর্কে একটি কথাও বলতে শোনা যায়নি তাঁকে। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশের শহরাঞ্চলে মহিলাদের গড় বেকারত্বের হার ছিল ৮.২ শতাংশ। যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বেড়ে হয় ৯ শতাংশ। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এই হার মাত্র ৫.১ শতাংশ। জম্মু ও কাশ্মীর বাদ দিলে ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজস্থানে (১৯.২ শতাংশ) যা সর্বোচ্চ। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে ১০.৯ শতাংশ এবং অসমে ১১.৭ শতাংশ।
গ্রামীণ এলাকার চিত্রটা কেমন? ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের বেকারত্বের হার কমে এসেছে ৩.৬ শতাংশে। যা গত বছর ছিল ৩.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কমেছে মাত্র ০.৩ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গোটা দেশের গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার ছিল ৪.৩ শতাংশ। তার পরের তিন মাসে ছিল ৪.৭ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। অর্থাৎ, উৎসবের মরশুমেও কাজ জোটেনি গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র ‘১০০ দিনের কাজ’ সহ নানা প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলার মহিলাদের অবস্থা আরও শোচনীয় হওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রের তথ্য বলছে অন্য কথা। যেখানে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের বেকারত্বে দেশের গড় ৩.৬ শতাংশ, বাংলায় তা মাত্র ২.৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের কথায়, ‘এই রিপোর্ট একটি রাজ্যের আর্থিক এবং সামাজিক দিক তুলে ধরছে। এর থেকে পরিষ্কার যে পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের কাজের সুযোগ আছে। একইসঙ্গে সামাজিক কারণে তাঁদের কাজে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনাও কম।’ এ বিষয়ে রাজ্যের পরিষদীয়মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, স্বনির্ভর গোষ্ঠী উন্নয়ন, ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সহায়তা সহ নানা প্রকল্প চালু করার ফলে আজ বাংলার মেয়েরা দেশকে দিশা দেখাচ্ছে। পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে মোদির নীতি।’