নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি ডিসেম্বরে কিছু সময়ের জন্য হিমঘরে আলু রাখার বর্ধিত ভাড়ার বড় অংশে ছাড় দেওয়া হল। কৃষি বিপণন দপ্তর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ডিসেম্বরের ২২ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত ভাড়ার বর্ধিত অংশে ছাড় মিলবে। তবে মজুরি খাতে কিছু টাকা ওই সময়েও অতিরিক্ত হিসেবে দিতে হবে। হিমঘরে আলু রাখার নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ নভেম্বর শেষ হয়। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে আলু হিমঘরে থেকে যাওয়ায় কৃষি বিপণন দপ্তর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করে। দক্ষিণবঙ্গে এই বর্ধিত সময়ের জন্য কুইন্টাল প্রতি ২০ টাকা ২২ পয়সা এবং উত্তরবঙ্গের হিমঘরের জন্য ২০ টাকা ৬৬ পয়সা করে অতিরিক্ত ভাড়া ধার্য হয়। গোটা মরশুমের জন্য যে ভাড়া ছিল, তার ভিত্তিতে এটা ঠিক করা হলেও আলু ব্যবসায়ীদের সংগঠন এতে আপত্তি জানায়। তাদের বক্তব্য ছিল, এবার বাম্পার ফলনের জন্য চাষি সহ যাঁরা হিমঘরে আলু রেখেছেন, তাঁদের অনেক লোকসান হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গেলে লোকসান আরও বাড়বে। হিমঘর মালিকদের সংগঠন অবশ্য বর্ধিত ভাড়া ছাড়া সময় বৃদ্ধি করতে রাজি ছিল না।
পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ চায়। এরপর কৃষি বিপণনমন্ত্রী বেচারাম মান্না সহ আধিকারিকরা হিমঘর মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্ধিত ভাড়া কিছু সময়ের জন্য কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। নতুন ব্যবস্থায় ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হিমঘর থেকে আলু বের করলে বর্ধিত হারে পুরো ভাড়া দিতে হবে। তারপর বর্ধিত ভাড়ায় অনেকটা ছাড় মিলবে। আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শ্রমিকদের মজুরি বাবদ শেষ ১০ দিনে প্রতি কুইন্টালে ৬ টাকার মতো অতিরিক্ত খরচ হবে। তবে স্বাভাবিক হারে বের হলেও ৩১ ডিসেম্বরের পর ৩ -৪ লক্ষ টন আলু হিমঘরে থেকে যাবে। ওই সময় নতুন আলু ব্যাপক পরিমাণে বাজারে ঢুকতে শুরু করে। তখন হিমঘরের আলুর চাহিদা কমে যাবে।



