নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির শ্রীরামপুরে নেশামুক্তি কেন্দ্রে আবাসিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর জেরে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার নেশামুক্তি কেন্দ্রের দু’জন কর্মীকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার শ্রীরামপুরের ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের আবাসিক মনোজ সাউকে তাঁর পরিবার গুরুতর জখম অবস্থায় শ্রীরামপুরের সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভরতি করায়। রাতে সেখানেই বছর একচল্লিশের মনোজের মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্মীদের মারধরের জেরেই মনোজ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং মারা গিয়েছে। সোমবার পরিবার শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তারপরেই তদন্তে নামে পুলিশ।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শ্রীরামপুরের নেশামুক্তি কেন্দ্রের ঘটনা হুগলিতে প্রথম নয়। সম্প্রতি হুগলির উত্তরপাড়া, কোন্নগর, ব্যান্ডেল সহ একাধিক এলাকায় নেশামুক্তি কেন্দ্রকে ঘিরে নানা জটিলতা প্রকাশ্যে এসেছে। কখনো মৃত্যু, কখনো কেন্দ্র থেকে পালানোর চেষ্টা, পালানোর জন্য নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিককে খুন, এমনই নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। শ্রীরামপুরের ঘটনা সেই তালিকায় নয়া সংযোজন। রবিবার রাতে মৃত মনোজ সাউয়ের ভাই রাজা সাউ বলেন, চিকিৎসার নামে ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে আবাসিকদের উপরে মারধর চলত। রবিবার সংস্থার দু’জন প্রতিনিধি রাহুল ও তারক পাসোয়ান আমাদের ডেকে পাঠায়। তারা বলে, তোমার দাদাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাও, অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দাদা’কে দেখেই আমরা বুঝতে পারি ওঁর উপরে নির্যাতন হয়েছে। রাতেই দাদা হাসপাতালে মারা যান। আমাদের অনেকগুলি প্রশ্ন আছে। সেসব জানিয়েই আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। আমার দাদা’কে নেশামুক্তি কেন্দ্রে খুন করা হয়েছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট নেশামুক্তি কেন্দ্রের কেউ প্রকাশ্যে বিবৃতি দেননি। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সংস্থার আটক হওয়া কর্মীদের দাবি, মৃতের পরিবারের ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে।
শ্রীরামপুরের চাঁপাখালের বাসিন্দা মনোজ সাউকে প্রায় তিনমাস আগে নেশামুক্তি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর চিকিৎসাবাবদ প্রতিমাসে পরিবারকে সাড়ে ছ’হাজার টাকা দিতে হতো। মনোজ ছাড়াও ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে আরও কিছু আবাসিক আছেন। মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে তাঁদের অনেককে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পরিবার তৎপরতা শুরু করেছে।



