নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে জেল হেপাজতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক অভিযুক্তের। মৃতের নাম প্রসেনজিৎ ঘোষ। মঙ্গলবার হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, সংশোধনাগারের ভিতর খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছিল প্রসেনজিৎকে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পরেও সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। চলতি বছরের ৫ আগস্ট লিলুয়ার বার্মা কলোনিতে মদ ও জুয়ার ঠেকে গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মীরপাড়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ। তার পর থেকে তিনি জেল হেপাজতে ছিলেন। গত শুক্রবার সংশোধনাগারে ছেলের সঙ্গে শেষবার দেখা করেছিলেন মা সুধা ঘোষ। তাঁর দাবি, সেই সময় ছেলে শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাসপাতালে ভরতি করার আরজি জানান। ছেলের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বুঝতে পেরে আইনজীবীর মাধ্যমে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করার আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। সুধাদেবীর অভিযোগ, সেই আবেদনে সাড়া দেওয়ার আগেই শনিবার বিকালে সংশোধনাগার থেকে ফোন করে জানানো হয়, তাঁর ছেলে গুরুতর অসুস্থ। তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। শেষপর্যন্ত তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হলেও বাঁচানো যায়নি। মৃতের মায়ের দাবি, চিকিৎসকেরা তাঁকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত নেশার কারণে প্রসেনজিতের লিভার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে ছেলের নেশার অভ্যাস নিয়ে চিকিৎসকদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন তিনি। তাঁর সন্দেহ, সংশোধনাগারে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু খাওয়ানোর জেরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রসেনজিৎ। অসুস্থতার কথা জানানোর পরেও কেন দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। সংশোধনাগারের ভিতরে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, পরিবারের দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।



