


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তিন মাসের রেশন একসঙ্গে। এই ইস্যুতে পিছু হটল মোদি সরকার। মূলত রেশন দোকানদারদের আপত্তিতেই কেন্দ্রকে পিছু হঠতে হল। গণবন্টন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলতে ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছে সরকার। যদিও তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, গরিব গ্রাহকদের সবার কাছেই কি স্মার্টফোন রয়েছে?
বর্ষার কারণে খাদ্যশস্য মজুত রাখার সমস্যা। তাই তড়িঘড়ি প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার কোটা রাজ্যগুলিকে আগেভাগেই নিয়ে নিতে গত ৬ মে সমস্ত রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল খাদ্যমন্ত্রক। বলা হয়েছিল, ৩০ মে’র মধ্যে জুন থেকে আগস্ট মাসের বরাদ্দ খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে নিন। এবং জুন মাসের মধ্যে ওই তিনমাসের চাল-গম গ্রাহককে দিয়ে দিন। একইভাবে জুন মাসেও সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর- তিন মাসের রেশন তুলে নিতে বলা হয়। প্রতি তিন মাসের জন্য গোটা দেশে খাদ্যশস্য লাগে ১৩৮ লক্ষ মেট্রিক টন। পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে তিনমাসের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৯ লক্ষ ৯২ হাজার মেট্রিক টন।
কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য তাঁরাই বা রাখবেন কোথায়? বেঁকে বসে রেশন দোকানদারা। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশিকে চিঠি দেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। আর সেই চাপেই কেন্দ্রীয় সরকার এখন রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে, সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। গত ৩০ জুন লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসের খাদ্যশস্য আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিলেও হবে। অর্থাৎ সাধারণ নিয়মেই ফিরে যেতে হল।
অন্যদিকে, বুধবার ছিল গণবন্টন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠক। লোকসভার ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝির সভাপতিত্বে এদিনের আলোচনার বিষয় ছিল, গণবন্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ। ডাকা হয়েছিল মন্ত্রকের সচিব সঞ্জীব চোপড়াকে। বিশেষ সূত্রে খবর, রেশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে নানা ধরণের মোবাইল অ্যাপের ওপর জোর দেন তিনি। রেশন দোকান গ্রাহককে সঠিক পরিমাণ খাদ্যশস্য না দিলে মোবাইল অ্যাপেই অভিযোগ জানানো যাবে। কিন্তু কমিটির সদস্য তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক প্রশ্ন তোলেন, গরিব রেশন গ্রাহকের সবার কাছে কি স্মার্টফোন আছে? না থাকলে কী করে অ্যাপ ডাউনলোডই বা হবে? তাই আধুনিকীকরণ মানেই অ্যাপ, তা কেন? খাদ্যসচিব জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে তবেই জবাব দিতে পারবেন।