Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দাদাগিরি মহিলা কাউন্সিলারের! বাড়িতে তালা দিয়ে বিধবাকে উচ্ছেদের চেষ্টা

দাদাগিরি মহিলা কাউন্সিলারের! বাড়িতে তালা দিয়ে বিধবাকে উচ্ছেদের চেষ্টা
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: উত্তর দমদম পুরসভা এলাকায় এক বিধবার পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টায় নাম জড়াল স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলারের। অভিযোগ, স্বামীহারা ওই মহিলার ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না। মহিলা কাউন্সিলারের এহেন ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে নিমতা থানা, পুরসভার চেয়ারম্যান, বিধায়ক, সাংসদের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি দিয়েছেন অসহায় মহিলা। যদিও অভিযুক্ত কাউন্সিলার ওই বাড়িতে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও হুমকি বা বাড়ি জবরদখলে মদত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাইঘাটার বাসিন্দা অনিতা পর্বতের স্বামী তপন পর্বত অনেক আগে প্রয়াত হয়েছেন। পৈতৃক সূত্রে তিনি উত্তর দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এম বি রোড লাগোয়া সিদ্ধেশ্বরী বাজারের টালিখোলায় একটি দোতলা বাড়ি পেয়েছেন। দোতলায় এখন ভাড়া রয়েছে। একতলার ঘরে তিনি ও তাঁর ছেলে মাঝেমধ্যে এসে থাকতেন। গত ২৭ অক্টোবর অনিতাদেবী ওই বাড়িতে ছিলেন। সেই সময় কাউন্সিলার অদিতি মুখোপাধ্যায় তাঁর এক ভাইকে নিয়ে ওই বাড়িতে আসেন। সেখানে এসে তিনি ঘরের দলিল দিতে বলেন। অভিযোগ, অনিতাদেবী দলিল দিতে অস্বীকার করলে আলমারি ভাঙার চেষ্টা করেন তাঁরা। আলমারি ভাঙতে না পেরে বাইরে থেকে চেন এনে আলমারি পেঁচিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। অনিতাদেবী থানা সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে বলেন, ‘কাউন্সিলার হুমকি দিয়ে বলেছেন, দলিল না দিলে পুলিস দিয়ে গ্রেপ্তার করাবেন। আতঙ্কে আমরা ওই বাড়ি ছেড়ে গাইঘাটায় চলে এসেছি।’ এরপর ২৭ নভেম্বর তাঁরা উত্তর দমদমের বাড়িতে এসে দেখেন, ঘরের গেটে তাঁদের লাগিয়ে দিয়ে যাওয়া তালার উপর আরও একটি তালা লাগানো রয়েছে। তারপর থেকে অনিতাদেবী ও তাঁর ছেলে পুলিস ও প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। এখনও তাঁরা ওই বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। মহিলা বলেন, ‘পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাড়ি থেকে আমাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। কাউন্সিলার নিজে বাড়িতে এসে হুমকি দিয়েছেন। ওঁর সামনে আলমারিতে তালা লাগানো হয়েছে। পরে দেখি দরজাতেও তালা লাগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সহ সর্বস্তরে অভিযোগ জানিয়েছি।’ কাউন্সিলার অদিতি মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ এসেছিল বলে গিয়েছিলাম। হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।’ অদিতিদেবীর স্বামী মহারাজ মুখোপাধ্যায় তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতি তথা ওয়ার্ড কমিটি সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই পুলিস তদন্ত করুক।’ পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। দরজার তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ