নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকে রোদ। দুপুর থেকেই দ্রুত বদলে গেল আবহাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যে কলকাতার আকাশ ছেয়ে গেল ঘন কালো মেঘে। ভরদুপুরেই অন্ধকার চারপাশ। কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হয় তুমুল ঝড়বৃষ্টি। সঙ্গে মুহুর্মুহু বজ্রপাত। মঙ্গলবার দুপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় কলকাতাসহ সংলগ্ন শহরতলির বিভিন্ন এলাকা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। বাদ যায়নি প্রাণহানিও! এদিন বজ্রাঘাতে মারা যান বিবেকানন্দ সরকার (৩৮) নামে কাঁচরাপাড়ার এক যুবক। কাঁচরাপাড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদনগরের বাসিন্দা তিনি। পেশায় টোটোচালক ওই যুবক বীজপুর থানার টোটো চালাতেন। হাওড়ায়ও বিপত্তি ঘটে। শিবপুরের শান্তা সিং মোড় এলাকায় শালিমার হিন্দি হাইস্কুলের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি উড়ে গিয়ে পড়ে একটি টালির বাড়ির উপর। পুষ্পা মিশ্রা নামে এক গৃহবধূ তাঁর দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে সেই ঘরে ছিলেন। এক শিশু জখম হয়। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিকালে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৭৫ কিলোমিটার। তুমুল ঝড়ে কলকাতায় ভেঙে বা উপড়ে যায় ৬০টির বেশি গাছ। জলমগ্ন হয়ে পড়ে একাধিক রাস্তা।
মুষলধারে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া চলে ঘণ্টাখানেক। পুরসভা সূত্রে খবর, মূলত সেন্ট্রাল কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ৬০টির বেশি গাছ ভেঙে পড়ে। হাইকোর্ট চত্বরে গাছ ভেঙে পড়ে একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলকাতা প্রেস ক্লাবের একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক’টি বড়ো গাছ ভেঙে পড়ায়। গাছ ভেঙে পড়েছে ধর্মতলা ট্রাম ডিপোতেও। রবীন্দ্র সদনের সামনে গাছ পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের সঙ্গেই চলে তুমুল বৃষ্টি। ফলে শহরের একাধিক রাস্তার বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে যায়। ব্যাহত হয় যান চলাচল। ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট, উল্টোডাঙা, মহেন্দ্র শ্রীমানি স্ট্রিট, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, দক্ষিণে নর্দার্ন পার্কসহ বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ভাঙা গাছ কেটে সরাতে পুরসভার ১৮টি টিম কাজে নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর ছিল কলকাতা পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
এদিন সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে দমদম সংলগ্ন কলকাতা এবং শহরের উত্তর-পূর্ব তল্লাটে। দমদমের বীরপাড়ায় এদিন সর্বোচ্চ ৮০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া, দত্তবাগান অঞ্চলে ৬৬ মিমি, মানিকতলায় ৬৫ মিমি, বেলগাছিয়া পাম্পিং স্টেশন জোনে ৫৮ মিমি, উল্টোডাঙায় ৫০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যদিও পুরসভা জানাচ্ছে, বিকাল ৩টে থেকে পৌনে ৪টের মধ্যেই এই বৃষ্টির ৯০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে।