গোপীবল্লভপুরের কুঠিঘাটে বৈষ্ণবমতে পূজিতা দক্ষিণাকালী, নিবেদন করা হয় ১০৮ রকম ভোগ
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: শাক্ত আরাধনার অন্যতম রূপ দক্ষিণাকালী। তন্ত্রমতে দেবীর পুজো হয়। রয়েছে বলির প্রথাও।  গোপীবল্লভপুরের কুঠিঘাটে দক্ষিণাকালীর আরাধনা হয় বৈষ্ণব মতে। দেবী বলি গ্রহণ করেন না। দীপান্বিতা অমাবস্যায় ফলমূল, সুজি, পায়েস ও অন্ন-সহ ১০৮ রকম ভোগ নিবেদন করা।  কালীপুজোর সময় দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা পুজো দিতে আসেন।

Advertisement

গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা এলাকায় কুঠিঘাটে কালীমন্দির রয়েছে। মন্দিরের সামনে সুবর্ণরেখা নদী বয়ে চলেছে। গোপীবল্লভপুর একসময় বৈষ্ণব আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সেই আন্দোলনের প্রভাব জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল।  বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবেই কুঠিঘাটের দক্ষিণাকালীর পুজোয় বলির পরিবর্তে ভোগ নিবেদনের রীতি প্রচলিত হয়েছে বলে মনে করা হয়।মন্দিরে রয়েছে কষ্টিপাথরের দেবীবিগ্রহ। দীপান্বিতা অমাবস্যায় নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে দেবীর উদ্দেশে ১০৮ রকমের ভোগনিবেদন করা হয়। দক্ষিণাকালীর পুজো তন্ত্রাচারের বদলে বৈষ্ণবীয় রীতিতেকরা হয়। দক্ষিণাকালী দেবী কালীর অন্যতম একটি রূপ।  দেবীর লাল জিভ রজোগুণের প্রতীক, সাদা দাঁতকে সত্যের প্রতীক ও গলার মুণ্ডমালা প্রজ্ঞার বার্তা বহন করে। তান্ত্রিক সাধনায় 'দক্ষিণ' বলতে সহজ-সুন্দর পথ (দক্ষিণ মার্গ) বোঝায়, যা সাধককে মুক্তি ও কল্যাণ প্রদান করে। দক্ষিণেশ্বর ও তারাপীঠের মতো তীর্থে দক্ষিণাকালীর পুজো তন্ত্রমতে হয়। সেখানে কুঠিঘাটের পুজোয় বৈষ্ণব আচারের অনুসরণ এক বিশেষভাবের বৈশিষ্ট্য। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। আর্থিক কারণে মন্দির সংস্কারের কাজ করা যায়নি বলে জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সদস্যরা। মন্দিরের কাছেই রয়েছে নীলকর সাহেবদের আমলের ভগ্ন কুঠি। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সুবর্ণরেখা নদী। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা মন্দির সংলগ্ন স্থান। মন্দিরের পাশাপাশি ঐতিহাসিক নিদর্শন ও নদীর সৌন্দর্যকে ঘিরে শীতের মরশুমে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। পর্যটকদের থাকার জন্য সরকারি বাংলোও রয়েছে। মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য সত্যব্রত রাউত বলেন, মন্দিরটি সংস্কার করে তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে তোলা গেলে আরও বেশি ভক্ত ও পর্যটক দের সমাগম হবে। ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনেরও প্রসার ঘটতে পারে।ঝাড়গ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের এই মন্দিরেজেলার নানা প্রান্তের মানুষ পুজো দিতে আসেন। দেবীকেনিয়মিত পুজো দিতে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।  গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের ছাতিনাশোল এলাকার বাসিন্দা, অনুপমা রায় বলেন, দীপান্বিতা অমাবস্যায় প্রতিবছর মায়ের পুজো দিতে যাই। দেবীকে ফলমূল অর্ঘ্য দিই। মা সব বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
সুবর্ণরেখার তীরে কুঠিঘাটের দক্ষিণাকালী  শুধু একটি তীর্থস্থান নয়। বাঙালি পরম্পরার শাক্ত, বৈষ্ণব ঐতিহ্য ও স্থানীয় লোকবিশ্বাসেরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মন্দিরের দক্ষিণাকালীকে ঘিরে ভক্তি ও আগ্রহ আজও অটুট।