Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্ষতির মুখে চাষাবাদ, টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সর্বত্র বিপর্যস্ত জনজীবন

একটানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন। বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায়। ক্ষতির মুখে অসংখ্য কৃষক।

ক্ষতির মুখে চাষাবাদ, টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সর্বত্র বিপর্যস্ত জনজীবন
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা: একটানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন। বিঘার পর বিঘা চাষের জমি জলের তলায়। ক্ষতির মুখে অসংখ্য কৃষক। সেচদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের আমগাছিয়ায় বৃষ্টি হয়েছে সর্বাধিক (২০৯ এমএম)। রাস্তা, অলিগলি ছাড়াও বহু বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে গিয়েছে। বিপর্যস্ত বহু পরিবার। সাগরের বহু জায়গা জলের তলায়। দুর্গতদের ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। মথুরাপুর দু’নম্বর ব্লকের নন্দকুমারপুর পঞ্চায়েতে একটি মাটির বাঁধে ধস নামার মতো পরিস্থিতি। তারপর বিডিও’র নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে তা মেরামতের কাজও শুরু হয়। এছাড়াও জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের বহু ব্লকে মাটির বাঁধের হাল বেশ শোচনীয়। 

Advertisement

ডায়মন্ডহারবার পুর এলাকাও ভাসছে জলে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। স্কুল, অফিস গৃহস্থ বাড়িতে জমে জল। সকালে স্লুইস গেট খোলা ছিল না বলে নামতে পারেনি শহরের জমা জল। বিকেলে গেট খোলার পর পরিস্থিতির খানিক উন্নতি হয়। বিষ্ণুপুরে অলিগলিতে জল জমে। বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকার নিচু জায়গার পরিস্থিতি খুব খারাপ। ঘর থেকে জল বের করতে দিনভর চেষ্টা চালিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। অনেক বাড়িতে রান্না হয়নি। তাঁদের খাওয়াদাওয়া একপ্রকার বন্ধ।ডায়মন্ডহারবারে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে এসডিও মাঠের উলটো দিকে নদীর ধারে বসার জায়গায় একটি অংশে ধস নেমে বিপত্তি ঘটে।
অবস্থা শোচনীয় বারুইপুরের মল্লিকপুর পঞ্চায়েত এলাকারও। সেখানে একাধিক বাড়িতে দীর্ঘদিন জল জমেছে। পানীয় জল সরবরাহের টাইম কল পর্যন্ত জলের তলায়। হরিহরপুর পঞ্চায়েতেও একই অবস্থা। জয়নগরের দক্ষিণ বারাসত গ্রাম পুরোপুরি জলমগ্ন। বারুইপুরের ২ থেকে ৫, ১০, ১১, ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে জল জমে রয়েছে। এরমধ্যে ৪ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দিনকয়েক আগে বৃষ্টির পর জল জমেছিল। তা এখনও নামেনি। সেখানে আবার নতুন করে জল জমেছে। মহেশতলা পুর এলাকাও জলমগ্ন। দুর্গতদের অভিযোগ, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার কারণে জল নামতে সময় লাগছে। ফলে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। জেলার প্রায় সর্বত্র বড়ো ক্ষতির আশঙ্কায় চাষাবাদ। কুলপি, মথুরাপুর, নামখানা, সাগর সহ একাধিক ব্লকে চাষের জমি কার্যত পুকুরে পরিণত হয়েছে। কৃষিজমি জলে থইথই করছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, জল যদি দিন সাতেক ধরে থাকে তাহলে বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট হতে পারে। ২৪ ঘণ্টায় সাগরে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গাসাগরের ধবলাট লালপুর এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি জলমগ্ন। প্রায় ২২টি পরিবারকে আশ্রয় নিতে হয়েছে ফ্লাড সেন্টারে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ