নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের আবহাওয়া প্রতিদিনই তপ্ত হচ্ছে। তার প্রভাব গভীরভাবে পড়ছে জীবনযাপনে। নাজেহাল মানুষ। আগামী দিনে বাংলার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে? এই বিষয়ে শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল আসার ও এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশন মিডিয়া প্রজেক্ট। আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদ, চিকিত্সক, অধ্যাপক, গবেষক এবং সাংবাদিকরা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া কীভাবে পাল্টাচ্ছে সেই বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে প্রায় ২০ দিন তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি ছিল। আবার ২০২৫ ও ২০২৬ সালে খুব একটা তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় ৩৭, পাহাড়ি অঞ্চলে ৩০ ও সমতলে ৪০ ডিগ্রি হলে তাপপ্রবাহ বলা হয়।’ কিন্তু সেখানেও স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা কতখানি বেশি রয়েছে তার উপর নির্ভর করে তাকে তাপপ্রবাহ বলা যাবে কি না। তাঁর বক্তব্য, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়েনি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়গুলো আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।’ তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস আগে দেওয়া গেলেও ঝড়বৃষ্টির বিষয়ে পূর্বাভাস খুব আগে দেওয়া সম্ভব হয় না। এখন বজ্রপাতের সংখ্যা বেশি ভাবাচ্ছে আবহাওয়াবিদদের। অন্যদিকে চিকিত্সক প্রতীম সেনগুপ্ত বলেন, ‘যাঁদের কাজের প্রয়োজনে তীব্র গরমের মধ্যেও বাইরে থাকতে হয় সমস্যা তাঁদের সবথেকে বেশি। মোটামুটি একঘণ্টা বাইরে থাকলে প্রায় সাড়ে চার লিটার জল শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আমাদের শরীরের ৬০ শতাংশ জল। রক্তচাপের ওঠানামা থাকে। সবচেয়ে ভয়ানক হল হিট স্ট্রোক।’ সে কারণে নুন দিয়ে প্রচুর জল পরিমাণে জল খাওয়ার প্রয়োজন। তাঁর মতে, ‘তাপপ্রবাহ এখন সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক অভিজিত্ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘরের ভিতরে বদ্ধ অবস্থায় দীর্ঘদিন খাবার রেখে দিলে অন্দরের তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়।’ আলোচনায় এসেছে ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ এর কথাও।



