


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাইবার ক্রাইমের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে কলকাতার প্রতিটি ডিভিশনে নোডাল অফিসার নামে নতুন করে একটি পদ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিসের সব ডিভিশনের ডিসিদের এ সংক্রান্ত একটি ইমেল পাঠিয়েছেন ডিসি (সাইবার) অভিষেক মোদি। এই নোডাল অফিসার পদটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা ডিএসপি পদমর্যাদার হবে বলে ঠিক হয়েছে। কলকাতা পুলিসে মোট ১০টি ডিভিশন রয়েছে। ফলে আপাতত দশজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হবে। কলকাতা পুলিসের এক বিশেষ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
এই নোডাল অফিসারদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বেঁধে দিয়েছে লালবাজার। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সংশ্লিষ্ট ডিভিশন ও থানার সাইবার (আর্থিক) জালিয়াতির ঘটনা ঠিক সময়ে লালবাজারে রিপোর্ট করা। পাশাপাশি লালবাজারের সাইবার থানার সাইবার ফ্রড রিকভারি সেকশনের সঙ্গে ডিভিশনের সমন্বয় রক্ষা করবেন তিনি। এছাড়াও সাইবার জালিয়াতিতে খোয়া যাওয়া কোটি কোটি টাকা ফেরানোর কাজে গতি আনতে আদালত এবং থানার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা তাঁর দায়িত্ব।
বর্তমানে কলকাতা পুলিসের প্রতিটি ডিভিশনে একটি করে সাইবার সেল রয়েছে। যার মাথায় রয়েছেন একজন করে এসআই বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার অফিসার। কার্যত, এই সাইবার সেলের মাথায় এবার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা ডিএসপি পদমর্যাদার কাউকে নোডাল অফিসার হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কেন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হচ্ছে লালবাজারকে? সাইবার জালিয়াতিতে কলকাতার বাসিন্দারা প্রতি বছর গড়ে ৬০০-৭০০ কোটি টাকা খোয়ান। খোয়া যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ টাকার মধ্যে মাত্র ১০-১৫ শতাংশ উদ্ধার করতে পারে কলকাতা পুলিস। যা নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে ক্রাইম কনফারেন্সে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা। ওই টাকা উদ্ধারে গতি আনতে চাইছে লালবাজার। যাতে সাধারণ মানুষের সুরাহা হয়।
অন্যদিকে, লালবাজার সাইবার থানার পাশাপাশি কলকাতার সব ডিভিশনে একটি করে পূর্ণাঙ্গ সাইবার থানা গঠনের প্রস্তাব বর্তমানে নবান্নে বিবেচনাধীন। ফলে আজ না হোক কাল, কলকাতার সব ডিভিশনে সাইবার থানা গঠিত হবে। সেকথা মাথায় রেখেই লালবাজার সব ডিভিশনের সাইবার সেলকে ঢেলে সাজার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলকাতার পুলিস কমিশনার।