নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে ল্যাণ্ডফোন প্রায় অতীত। যতটুকু ল্যান্ডফোন এখনও দেখা যায় তা মূলত সরকারি অফিস, আদালত, বিভিন্ন বড়ো কর্পোরেট সংস্থায়। তাই ল্যাণ্ডফোনের প্রতি মানুষের ভরসা রয়েছে। এবার মানুষের সেই বাড়তি ভরসাস্থলেই আঘাত হানল সাইবার প্রতারকরা। ল্যাণ্ডফোন থেকে ফোন করে টাওয়ার বসানোর নাম করে চলছিল দেশজুড়ে এই সাইবার প্রতারণা। আর এই প্রতারণা হচ্ছিল খোদ বেনাচিতি বাজারের অদূরে নতুনপল্লিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে। পুলিশি অভিযানে সাতটি ল্যাণ্ডফোন, মোবাইল, সহ বহু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আট জন সাইবার প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে তিন যুবতী রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, এই যুবতীরা স্মার্ট ও শিক্ষিতা। একজনের বাড়ি দুর্গাপুর শহর লাগোয়া অণ্ডাল থানা এলাকায়। দুর্গাপুর শহরের মধ্যেই বাকি দু’জনের বাড়ি। ফলে নতুন উদ্বেগ শুরু হয়েছে পুলিশের। এতদিন যতগুলি ভুয়ো কল সেন্টার বা সাইবার ডেরার হদিশ মিলেছিল তা হয় ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলা থেকে এসে এখানে আশ্রয় নেওয়া সাইবার প্রতারকদের নয় তো জামতাড়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সেখানকার কোন আত্মীয়ের। যারা এখানে সাইবার অপরাধের ডেরা বানিয়েছিল। এক্ষেত্রে কিন্তু স্থানীয় এই যুবতীরাই টেলি কলারের ভূমিকা পালন করত। দুর্গাপুর থানার পুলিশ শনিবার আটজন অভিযুক্তকেই আদালতে তোলে। বিচারক অভিযুক্তদের সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। ল্যাণ্ডফোন ব্যবহারের সুবিধা প্রকাশ্যে এনেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, মূলত প্রবীণদেরই টার্গেট করত এই গ্যাং। প্রথমে মহিলারা ল্যাণ্ডফোন নম্বর থেকে কল করে বলতেন, আপনার কি জমি রয়েছে? যদি থাকে সেই জমিতে মোবাইল টাওয়ার বসালে কী কী সুবিধা তিনি পাবেন সেসব বলতেন। শিকার টোপ গিললেই সংশ্লিষ্ট মহিলা জানাবেন, আরও বিস্তারিত জানাতে আমাদের সিনিয়র অফিসারের সঙ্গে কথা বলুন। ল্যাণ্ডফোন থেকে কলটি ট্রান্সফার করা হত তৎক্ষণাৎ। এতে প্রতারিত আরও বেশি করে বিশ্বাস করতে শুরু করেন, নিশ্চয়ই কোনো কর্পোরেট সংস্থা থেকে ফোন এসেছে। এরপর টাওয়ার বসানোর জন্য নানা ফি নেওয়ার নামে কার্যত টাকা লুট করা হত। প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে বেনাচিতির ওই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে টাওয়ার বসানোর নামে ফোন যাচ্ছে। তারপরই শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযান চালায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ অফিসররা। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন নিচে দোকান। উপরে বিমা সংস্থার অফিস। বিভ্রান্ত হয় পুলিশ। পরে সেই বিমা সংস্থার অফিসে হানা দিতেই বেরিয়ে আসে আসল কারবার। বিমা সংস্থার অফিসের নামে সাইবার প্রতারকদের কল সেন্টার চলছিল সেখানে! আট অভিযুক্তই স্থানীয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।



