Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাইবার প্রতারণায় নিরীহ ব্যক্তির নথির সাহায্যে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, মোটা টাকার লেনদেন নির্বিঘ্নে করার ফন্দি দুষ্কৃতীদের

সেভিংস অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকার লেনদেনে করা যায় না। তাতে সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই বেশি টাকা লেনদেনের জন্য এবার প্রোপাইটরশিপ অ্যাকাউন্ট খুলছে প্রতারকরা।

সাইবার প্রতারণায় নিরীহ ব্যক্তির  নথির সাহায্যে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, মোটা টাকার লেনদেন নির্বিঘ্নে করার ফন্দি দুষ্কৃতীদের
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সেভিংস অ্যাকাউন্টে যত খুশি টাকার লেনদেনে করা যায় না। তাতে সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই বেশি টাকা লেনদেনের জন্য এবার প্রোপাইটরশিপ অ্যাকাউন্ট খুলছে প্রতারকরা। এটি এমন ধরনের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, যেখানে ব্যবসার মালিকানা একজনেরই থাকে। এই নয়া ফন্দিতে প্রতারকরা সামান্য কিছু টাকার টোপ ফেলে গরিব নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে নথিপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে। সেই নথি দিয়েই খোলা হচ্ছে ওই অ্যাকাউন্ট। অথচ, ওই নিরীহ মানুষরা জানতেই পারছেন না, তাঁদের নথি দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে প্রতারণার কোটি কোটি টাকা। কারণ, ওই মিউল অ্যাকাউন্টগুলিতে সাইবার প্রতারণার টাকা রাখা হচ্ছে। পুলিস ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই ব্যাপারে সচেতনও করেছেন। পুলিসের দাবি, প্রোপাইটরশিপ এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তাব পেলেই দ্রুত থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।

Advertisement

বেশিরভাগ সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রেই প্রতারকরা এখন মিউল অ্যাকাউন্টে টাকা রাখছে। অর্থাৎ, যাঁর নথিপত্র দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, তিনি জানেন না ওই অ্যাকাউন্টে কী কাজ হচ্ছে। অথচ, কোনও প্রতারণা হলে লেনদেনের সূত্র ধরে পুলিস অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে চিহ্নিত করে। তাতে যাঁর নামে অ্যাকাউন্ট, তিনিই হেনস্তার শিকার হতে পারেন। চলতি বছরে বিধাননগর কমিশনারেট একটি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ মামলার তদন্তে নেমে এই ধরনের অ্যাকাউন্ট বানানোর একটি বড়সড় চক্রের হদিস পেয়েছিল। তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জানতে পেরেছিল, কলকাতাতেই তারা প্রায় ৫০০টি প্রোপাইটরশিপ এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলেছিল।
প্রতিটি অ্যাকাউন্টই সাধারণ নিরীহ মানুষের নথি নিয়ে খোলা হয়েছিল। প্রতারকরা আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট, ছবিসহ সমস্ত নথিপত্র নেওয়ার জন্য নিরীহদের কিছু আর্থিক টোপ দেয়। সামান্য টাকার লোভে অনেকেই কিছু না বুঝে রাজি হয়ে যান। সেই নথিপত্র নিয়ে প্রতারকরা প্রোপাইটরশিপ ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলছে। এইগুলিকে হাইভ্যালু ট্রানজাকশন অ্যাকাউন্টও বলা হয়। প্রতারকরা বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থার নাম ব্যবহার করে ওই অ্যাকাউন্টগুলি খুলছে। তার জন্য তারা সংস্থার ভুয়ো প্যাড ও নথিও তৈরি করছে। সেখানে গরিব মানুষের নামগুলি তারা জুড়ে দিচ্ছে। তাই কেউ টোপ দিলেও নথিপত্র দেওয়া বা অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যাপারে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে পুলিস। তা না-হলে নিজের অজান্তেই সাইবার প্রতারণা মামলায় জড়িত যেতে পারেন সেই নিরীহ ব্যক্তিও।

সম্পর্কিত সংবাদ