


সংবাদদাতা, বাগডোগরা: অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে আধার লিংক করতে পোস্ট অফিসে গত ক’দিন ধরেই সকাল থেকে গ্রাহকদের লম্বা লাইন। এদিকে, মাঝপথে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার গোঁসাইপুর পোস্ট অফিসে ভাঙচুর চালায় একদল ক্ষিপ্ত জনতা। ফলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বাগডোগরা থানা থেকে পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
উপভোক্তারা জানান, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁরা। উদ্দেশ্য একটাই, আধার নম্বরের সঙ্গে ফোন নম্বরের লিংক। গোঁসাইপুর পোস্ট অফিসে একজনই মাত্র কর্মী। গত ক’দিনের মতো এদিনও প্রায় পাঁচশো মহিলা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, শম্বুক গতিতে লাইন এগয়। একসময় পরিষেবা দেওয়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিষেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে একাংশ মহিলা-পুরুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে পোস্ট অফিসে। উত্তেজিত লোকজন ভাঙচুর করে জানালার কাচ।
সুশান্ত ঘোষ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ক’দিন ধরেই ভোর থেকে প্রচুর মানুষ আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বরের লিংক করতে লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এই পোস্ট অফিসে একজন মাত্র কর্মী থাকায় তাঁর পক্ষেও সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিন উত্তেজিত কিছু লোক ভাঙচুর চালায়। জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
আধারের সঙ্গে ফোন নম্বর সংযুক্তি করাতে আসা লক্ষ্মী সরকার বলেন, কাজ না হওয়ায় ফিরে যেতে হচ্ছে। শুক্রবার আসতে বলা হয়েছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। লিংক না হলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাব না।
অপরদিকে, পোস্ট মাস্টার পৃথা রায় সিংহ বলেন, একা আমাকে ডাকঘরের সমস্তরকম পরিষেবা গ্রাহকদের দিতে হয়। সকলেই চাইছেন আধারের সঙ্গে ফোন নম্বরের লিংক করাতে। বললেই হয় না, কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কাজটি করতে হয়। তাছাড়া কেউ কেউ লাইন ভেঙে আগে চলে আসায় এদিন লাইনেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। গত বুধবার আমাকে একজন ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়েই দৈনিক ২৫ জনের আধার লিংক করে দিচ্ছি। সেটা উপভোক্তাদের জানিয়ে দিই। তারপরেই এদিন গণ্ডগোল হয়।
অন্যদিকে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে আজ, শুক্রবার থেকে পুলিশের উপস্থিতিতে পোস্ট অফিসে পরিষেবা চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। • নিজস্ব চিত্র।