Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটার তালিকায় নাম বাদ বহু মানুষের পরামর্শ নিতে ভিড় জমছে তৃণমূল অফিসে

বিজেপির ডাকে মিটিং-মিছিলে ভিড় করতেন। ভোটের লাইনে দাঁড়াতেন বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর জন্য।

ভোটার তালিকায় নাম বাদ বহু মানুষের পরামর্শ নিতে ভিড় জমছে তৃণমূল অফিসে
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিজেপির ডাকে মিটিং-মিছিলে ভিড় করতেন। ভোটের লাইনে দাঁড়াতেন বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর জন্য। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের মাদানিবাজার, জাবরাভিটার সেই সব সাধারণ মানুষ আজ তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বারস্থ। নাগরিকত্ব বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমে স্বীকার করছেন, এতদিন বিজেপিকে সমর্থন করাটা ভুল হয়েছে। 

Advertisement

এসআইআর কোপে ভোটার তালিকা থেকে এখানকার সংশ্লিষ্ট দু’টি অংশে ৩০৬ জনের নাম বাদ গিয়েছে। অনেকে বিচারাধীন। নাগরিকত্ব বাঁচানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের আন্দোলনই এখন তাঁদের ভরসা। তাই এখানকার দলে দলে মানুষ ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-নেত্রীদের কাছে, তৃণমূল পার্টি অফিসে ভিড় করছেন। 
প্রথম পর্যায়ে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই বিধানসভা এলাকায় ৫৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এলাকা দু’টি পদ্ম ঘাঁটি হিসেবেই চিহ্নিত। এত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় বিজেপিও বিড়ম্বনায় পড়েছে। মাদানিবাজার, জাবরাভিটা এলাকায় বিজেপির পঞ্চায়েত। স্থানীয় বাসিন্দা রুমা রায় সরকার, ৬৮ বছরের বৃদ্ধ কৃষ্ণ সরকার, প্রতিমা সরকার, মহেশ বর্মন, শৈলেন বাইন, রাজকুমার পাসোয়ানরা এখন ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। এঁদেরে অনেকেরই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। কারও বাবা, ঠাকুরদার নাম আছে। তবু প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে কেন নাম বাদ গেল, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। এখন নাগরিকত্ব বাঁচাতে বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে সকলে তৃণমূলের দ্বারস্থ হয়েছেন। 
জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার সদস্য তৃণমূলের মণীষা রায় বলেন, প্রথম পর্যায়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই কাতারে কাতারে আতঙ্কিত মানুষ সারাক্ষণ আসছে। সকলের আর্তি ভোটার তালিকায় নাম তোলার। এঁদের সকলের ঘুম ছুটেছে। বাচ্চা কোলে নিয়ে এসে মহিলারা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন, এতদিন বিজেপিকে সমর্থন করে তাঁরা ভুল করেছেন। মানুষকে এই হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমাদের প্রতিবাদ, লড়াই চলছে। বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম সংযোজনের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এর মধ্যে অনেক পুরনো ভোটার রয়েছেন। আবার অনেকের বাপ-ঠাকুরদার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আছে। এমন ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার পিছনে বিজেপির চক্রান্ত রয়েছে। রাজগঞ্জের বিডিও’র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করিয়ে জমা করাচ্ছি আমরা। 
যদিও বিজেপির রাজগঞ্জ ব্লক সংখ্যালঘু সেলের নেতা মতিউর রহমান বলেন, কিছু ভুলভ্রান্তির জন্য নাম বাদ পড়েছে। সেসব বিচারকরা খতিয়ে দেখছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকাতেই নাম বাদ পড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ