নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বাংলা দলের তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার তথা আইপিএলের দিল্লি টিমের ‘মারকুটে’ ব্যাটসম্যান অভিষেক পোড়েলকে গ্রেপ্তার করল হুগলির মগরা থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ডাক্তারি পড়ুয়া এক তরুণী, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ তুলেছিলেন। চন্দননগরের বাসিন্দা এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ওই তরুণী। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়, তরুণী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে অভিষেককে, এই নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে অভিষেককে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবারই তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়েছিল। আদালত ওই উদীয়মান ক্রিকেটারের জামিনের আবেদন খারিজ করে তিন দিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও আইটি আইনের একাধিক ধারায় পুলিশ ‘দিল্লি ক্যাপিটালের’ ওই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে।
এদিন কালো মাস্কে মুখ ঢেকে মাথায় টুপি দিয়ে পুলিশের ঘেরাটোপে আদালতে যান অভিষেক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও উত্তর তিনি দেননি। তবে মাসাধিক কাল আগে যখন ডাক্তারি পড়ুয়া ওই তরুণী মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তখন অভিষেক সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন। পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এদিন অবশ্য হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং বলেন, এক তরুণী নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই ভিত্তিতেই পদক্ষেপ হয়েছে। চুঁচুড়া আদালতের সরকারি আইনজীবী শিবাজি দাস বলেন, অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে তিনদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ বিচারক দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, ভিনরাজ্যে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন হুগলির ওই তরুণী। সেখান থেকেই অভিষেকের সঙ্গে পরিচয়। তিনি জানিয়েছেন, পরে তা ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়। তাঁরা বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি দু’জনে বিদেশেও গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে অভিষেক আচমকা তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন। জানা গিয়েছে, ওই সময়েই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল। কিন্তু থানা-পুলিশ হয়নি। পরে দু’জনের মধ্যে সমঝোতাও হয়। আবারও একবার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কিন্তু তরুণীর অভিযোগ, ফের অভিষেক নিজের প্রতিশ্রুতি ভুলে দূরত্ব তৈরি করে। সম্পর্ককেই অস্বীকার করতে শুরু করে। এরপরেই চলতি বছরের জুন মাসে মগরা থানায় ওই তরুণী তাঁর মা’কে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে বর্তমান পুলিশ সুপার নিজেই থানায় এসেছিলেন। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানেই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের সময় পরিবারকে নিয়ে সফরে ছিলেন অভিষেক। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই পর্বেই অভিযোগকারী তরুণী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এরপরই সোমবার রাতে অভিষেকের কলকাতার একটি অভিজাত আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রসঙ্গত, চন্দননগরের বাসিন্দা অভিষেক বাংলা ২০২১-২২ সালে বাংলা দল সুযোগ পান। তখনই তাঁকে উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আইপিএল খেলতে গিয়ে তিনি বিস্ফোরক টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান এবং ভালো উইকেটকিপার হিসাবে বিসিসিআইয়ের নজরে পড়েন। সেই সুবাদে তাঁকে ইন্ডিয়া-এ দলের একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। শেষ আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিট্যালের হয়ে নজর কেড়েছিলেন চন্দননগরের অভিষেক।
চন্দননগর আদালতে অভিষেক। -নিজস্ব চিত্র