নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশ বিরোধী কোনো স্লোগান এবং কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য কঠোর হাতে পরিস্থিতি সামলানো হবে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা করা হবে। একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বামপন্থী ও অতিবামদের তির্যক ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, নকশালদের বীজসমেত তুলে ফেলার সঠিক সময় এটা।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্য সরকার পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত বিল। তড়িঘড়ি এই বিল আনার পিছনে রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে এবং লক্ষ্য যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, সেই প্রশ্নটা তুলে দিয়েছে বিরোধীরা। পরে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই জানিয়ে দেন, বিরোধীদের মুখে উচ্চারিত গেরুয়াকরণ শব্দবন্ধ নিয়ে আমার তীব্র আপত্তি রয়েছে। সিপিএম আমলে অনিলায়ন, তৃণমূলের সময় মমতায়ন হয়েছে। কিন্তু এখন বিরোধীরা যে আশঙ্কা করছেন, সেটা আমরা করব না। এরপরই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে ছত্রে ছত্রে সিপিএম এবং অতিবামদের চড়া সুরে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে কিষানজি লাল সেলাম, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ফ্রি প্যালেস্তাইনের মতো স্লোগান যাঁরা দিচ্ছেন বা লিখছেন, তা করা যাবে না। এসব যাঁরা করে সেই টুকরে টুকরে গ্যাংকে আমরাই টুকরো করে দেব। গান্ধীজি নয়, নেতাজির ভাষায় জবাব দেব আমরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত বামপন্থী জামা গায়ে জড়িয়ে কয়েকজন দেশ বিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন, রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছেন, তাঁদের শৃঙ্খলার বিষয়টি মনে করিয়ে দিই।
মূলত এদিন শুভেন্দুর বক্তব্যে আগাগোড়া ছিল সিপিএমকে নিশানা। তাঁর অভিযোগ, গরিবদের টাকা আত্মসাৎ করে ২৫০০ পার্টি অফিস বানিয়েছে সিপিএম। আর একেকজন সিপিএম নেতার বাড়িতে কমপক্ষে ২০ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই চাকরি যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের তালিকা খুঁজে বের করব।
সিপিএমের তরফে দুর্গাপুজোয় রাজ্যজুড়ে পুজো প্যান্ডেলের সামনে বইয়ের স্টল দেওয়া হয়। কিন্তু এবার পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়ার ক্ষেত্রে পুজো কমিটিগুলির কাছে বিশেষ আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শারদোৎসবের জায়গায় ‘দুর্গাপুজো’ না লিখলে স্টল করতে দেবেন না সিপিএমকে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে সিপিএম। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন শারদোৎসব। বইয়ের স্টল আমাদের হবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ থাকল। পাশাপাশি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বহুত্ববাদী চিন্তাকে ধ্বংস করার পথে যেতে চাইছেন। লড়াই হবে। এবছর আরও বেশি সংখ্যক বইয়ের স্টল থাকবে আমাদের।
অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও ভবিষ্যৎবাণী করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে এবং পুরভোটে গেরুয়াধারীরা বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে কী অবস্থা করে দেখবেন! এখন আমাদের ২০৭ জন বিধায়ক আছেন। সংখ্যাটি ২০৮। রেজিনগরে ভালো করে লড়ব আমরা। বিরোধীদের ছাড়ার কোনো জায়গা নেই। যদিও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, নন্দীগ্রাম বিজেপি জিতবে। কিন্তু রেজিনগরে আমাদেরই বিধায়ক হবেন।