সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে পরিবারে অশান্তি ও লোকলজ্জার চরম মাশুল গুনতে হল যুগলকে! রেললাইনে উদ্ধার হল রক্তাক্ত দু’টি নিথর দেহ। রঘুনাথগঞ্জের গদাইপুরে সোমবার রেললাইন থেকে এক যুবক ও এক বধূর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা রতন ঘোষ (২৫) ও প্রিয়া মাঝি (৩০)। উভয়েরই বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার গদাইপুর গ্রামে। রবিবার রাতে দূরপাল্লার গরিব রথ এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে দু’জন আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়েই জঙ্গিপুর রেল পুলিশ (জিআরপি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু’টি জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জঙ্গিপুর রেল স্টেশনের জিআরপি অফিসার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে দু’জনের মধ্যে পরকীয়ার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা। মানসিক অবসাদ ও পারিবারিক গোলমালের জেরে তাঁরা গভীর রাতে গরিব রথ এক্সপ্রেসের সামনে ঝাঁপ দেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী বিবাহিত। প্রিয়াদেবীর স্বামী ও দু’টি সন্তান রয়েছে। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক স্বামী বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন। অন্যদিকে, মৃত রতন অবিবাহিত যুবক। এলাকায় একটি মুদির দোকান রয়েছে তাঁর। গত কয়েক বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক বেশিদিন গোপন থাকেনি। সম্প্রতি উভয় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানার পর থেকেই চরম অশান্তি শুরু হয় দুই পরিবারে। পাশাপাশি পড়শিদের মধ্যেও চর্চা শুরু হওয়ায় লজ্জায় মুখ ঢাকতে দিশেহারা হয়ে পড়েন দু’জন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শেষমেশ চরম পথ বেছে নেন তাঁরা। এদিন সকালে গদাইপুর এলাকায় রেললাইনের উপর দু’টি ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা। রেললাইনে যুগলের দেহ পড়ে থাকার খবর ছড়াতেই বহু মানুষ ভিড় জমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ। খবর পৌঁছায় মৃতার স্বামীর কাছে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। রেললাইনের উপর স্ত্রীর ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই বধূর মামা অতনু মাঝির কথায়, কেন ভাগ্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা আমরাও বুঝে উঠতে পারছি না। বাড়িতে কোনো অশান্তি ছিল না। তবে এ বিষয়ে কানুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মনোজ মাঝি বলেন, প্রকাশ্যে কোনো ঝামেলার কথা জানা ছিল না। তবে কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা ভেবে কেউ কূল কিনারা পাচ্ছে না।