নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মক্কায় বাংলাদেশি যুগলের চুম্বনের ভিডিয়ো নিয়ে এখন উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। ওই যুগলকে চরম শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের শিরচ্ছেদ করা হয়েছে। তারপর থেকে সমালোচনার ঝড় বইছে বিশ্বজুড়ে। চুম্বন কি সত্যিই অপরাধ? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু নেটিজেন বলছেন, ওই যুগল চুমু খেয়ে এমন কিছু অপরাধ করেননি। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। চুমু খাওয়ার জন্য মৃত্যুদণ্ড মধ্যযুগীয় বর্বরতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
চুম্বন বিতর্ক তৈরির পিছনে রয়েছে বাংলারই এক যুবকের ভূমিকা। তিনি অবশ্য শুধু আবেগের বশে চুম্বনরত যুগলের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। তবে এত কিছু হয়ে যেতে পারে তা তিনি ভাবতেও পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভিডিয়ো আপলোড করার অভিযোগে তাঁকে সৌদির পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। তিনি এখন সেই দেশের জেলে বন্দি। তাঁকে জেলমুক্তি করে এদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার দূতাবাসে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও কোনো উত্তর না আসায় পরিবার চিন্তিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন শেখ পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁর সামনেই বাংলাদেশের ওই যুগল রোমান্টিক হয়ে ওঠেন। সে সময় পাকিস্তানের এক যুবক সাহাবুদ্দিনের মোবাইল ফোন নিয়ে সে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। সেটি আপলোড করেন তিনি। তারপর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।
পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করেন মুর্শিদাবাদের মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ওই যুবক স্রেফ মজা করার জন্যই ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। এমন সমস্যায় পড়তে হবে তা ভাবেননি। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে তিনি জেলে। এখন ওই যুগলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাসিন্দা ওই যুগলও মক্কায় সাফাই কাজ করতেন। সাহাবুদ্দিনের মা কোহিনুর বিবি বলেন, ওই যুগলকে ওরা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আমার ছেলের কী হবে জানি না। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ও জেলে। ও কোনো বড়ো অপরাধ করেনি। তার জন্য ওকে এত কঠিন শাস্তি পেতে হল। ওর টাকাতেই আমাদের সংসার চলে। প্রায় আট বছর ধরে সৌদিতে কাজ করছে। কোনো দিন অন্যায় কিছু করেনি। শুধু ভিডিয়ো শেয়ার করার জন্য তাকে এভাবে জেল খাটানো হচ্ছে।



