নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা’। কলকাতা পুলিশের এক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারের দেহরক্ষী কনস্টেবলের বিরুদ্ধেই চিটফান্ড চালানোর অভিযোগ উঠল। শুধু চিটফান্ড চালানো নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মোটা টাকা রিটার্নের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছে লালবাজারে। শ্যামপুকুর থানা এলাকার এক দম্পতি ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন থানাতেও।
অভিযোগকারী শ্যামবাজারের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ ঘোষাল। ২০২৪ সালে কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেই পুলিশকর্মী নিজেকে লালবাজারের এক আইপিএস অফিসারের দেহরক্ষী হিসাবে পরিচয় দেন। বর্তমানে ওই আইপিএস অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের পদে কর্মরত। প্রসেনজিৎবাবুর দাবি, এসডিএফএক্স গ্লোবাল নামে একটি কোম্পানি চালান বলে জানিয়েছিলেন ওই পুলিশকর্মী। খোদ লালবাজারের আধিকারিকের দেহরক্ষী পরিচয় দেওয়ায়, ভরসা পেয়ে সেই কোম্পানিতে লগ্নি শুরু করেন অভিযোগকারী। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সাল থেকে পাঁচদফায় মোট ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা লগ্নি করেন। কিন্তু, গত দু’বছরে কোনো টাকাই রিটার্ন পাননি তিনি। তাই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে টাকা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে চাপ দিতে থাকেন অভিযোগকারী। কিন্তু, একাধিকবার তাগাদা পেয়ে মাত্র ১১ হাজার ৬১৫ টাকা ফেরত দেন অভিযুক্ত। লালবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধদমন) কুণাল আগরওয়ালকে ই-মেল করে একটি অভিযোগপত্র পাঠান অভিযোগকারী। সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন গোয়েন্দা প্রধানের অফিস। সেই অভিযোগের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয় শ্যামপুকুর থানায়। পুলিশ সূত্রের খবর, শ্যামপুকুর থানাতেও একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন অভিযোগকারী। তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে। এপ্রসঙ্গে, কলকাতা পুলিশের ওই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও, তিনি মেসেজের কোনো উত্তর দেননি।