Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পিচের আস্তরণ কাটার মিলিং মেশিনে রাস্তা হচ্ছে মসৃণ, ৪ যন্ত্র নিয়ে টানাটানি কাউন্সিলারদের

পিচের আস্তরণ কাটার মিলিং মেশিনে রাস্তা হচ্ছে মসৃণ, ৪ যন্ত্র নিয়ে টানাটানি কাউন্সিলারদের
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ১২:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরসভার হাতে রয়েছে মাত্র চারটি মেশিন। তা দিয়ে পূরণ হচ্ছে না কাউন্সিলারদের চাহিদা। ফলে তাঁদের মধ্যে মেশিন নিয়ে কার্যত টানাটানি শুরু হয়েছে। কার ওয়ার্ডে আগে কাজ হবে, তা ঠিক করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে আধিকারিকদের। রাস্তার পিচ কাটার জন্য ব্যবহার হয় ‘মিলিং মেশিন’। পুরসভার সড়ক বিভাগের হাতে রয়েছে মেশিনগুলি। এখন শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক মসৃণ করার কাজ চলছে। রাস্তার উঁচু-নিচু, ঢেউখেলানো দশা কাটাতে প্রথমে এই মেশিন দিয়ে পুরনো পিচের আস্তরণ কেটে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর দেওয়া হচ্ছে নতুন পিচের প্রলেপ। এর ফলে রাস্তার উপরিতল অনেক বেশি মসৃণ হচ্ছে। মেশিনগুলির কার্যকারিতা দেখে একের পর এক কাউন্সিলার তাঁদের ওয়ার্ডের রাস্তাগুলি সংস্কারের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। মাত্র চারটি মেশিন দিয়ে সেই চাহিদা মেটানো যে অসম্ভব, মেনে নিচ্ছেন পদস্থ পুরকর্তারা। পরিস্থিতি ‘ম্যানেজ’ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। মাঝপথে থমকে থাকছে রাস্তার কাজ। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে খবর, পর্যাপ্ত সংখ্যায় ‘মিলিং মেশিন’ না থাকায় সঠিক সময়ে রাস্তার কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। যেমন, মেশিন না পাওয়ায় পাথুরিয়াঘাটা রোডের সংস্কার দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। সম্প্রতি কালীঘাট অঞ্চল থেকে মিলিং মেশিন তুলে নিয়ে গিয়ে বেলগাছিয়ায় একটি রাস্তায় পিচ কাটার কাজে লাগানো হয়েছে। সেই কাজটিও বহুদিন থমকে ছিল। পুরসভার সড়ক বিভাগের খবর, মিলিং মেশিন প্রয়োজন, এমন ২৫-৩০টি রাস্তার কাজ ঝুলে রয়েছে। তাই পুরসভার সিদ্ধান্ত, নতুন আরও পাঁচটি মিলিং মেশিন কেনা হবে। এক-একটি মেশিনের জন্য খরচ পড়তে পারে ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা করে। শীঘ্রই এনিয়ে টেন্ডার ডাকতে চলেছে পুরসভা। সড়ক বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘আমাদের মেকানিক্যাল শাখার আওতায় চারটি মিলিং মেশিন রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ও সড়ক বিভাগ সেগুলি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে। কিন্তু এখন সব কাউন্সিলরাই ওই মেশিনে কাজ করাতে চাইছেন। আসলে মিলিং মেশিন থাকলে কাজ অনেক সূক্ষ্মভাবে করা যায়। কত ইঞ্চি কাটতে হবে, সেই পরিমাপ সেট করে দিলেই মিলিং মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক ততটুকু পিচই কেটে তুলে ফেলতে পারে। কনভেয়ার বেল্ট-এর মাধ্যমে কেটে ফেলা পিচ গাড়িতে তোলা হয়।’ তিনি আরও জানান, ওই মেশিন না থাকলে জেসিবি দিয়ে বা শ্রমিক নামিয়ে রাস্তার পিচ কাটতে হয়। সেক্ষেত্রে কাজ এতটা নিখুঁত ও সুন্দর হয় না। সূত্রের খবর, অদূর ভবিষ্যতে শহরের ১৬টি বরোর জন্য ১৬টি ‘মিলিং মেশিন’ প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে পুর কর্তৃপক্ষের। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ