


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: গ্যাস ওভেনের পাইপ পাঁচ বছর বদলানো হয়নি? সংকট কিন্তু তাহলে দরজায় কড়া নাড়ছে। কারণ, শুধু এই কারণেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের ডেলিভারি। ইতিমধ্যেই গৃহস্থের একাংশ এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। সিলিন্ডার বুকিং করার পরও তাঁরা ডেলিভারি পাননি। ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়ে দিয়েছে, তাদের থেকে পাইপ কিনলেই মিলবে সিলিন্ডার। না হলে নয়। সেই মতো কিনতে হচ্ছে গ্যাসের নতুন ‘হোস’। রেহাই তারপর। গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি গ্রাহকের সুরক্ষার প্রশ্নেই পাইপ বদলানোর উপর জোর দিচ্ছে। তাই সিলিন্ডার ডেলিভারি বন্ধ করার হুমকি দিয়েই গ্রাহককে তা কিনতে একপ্রকার বাধ্য করছে তারা। যদিও গ্রাহকদের একাংশের ক্ষোভ এতে রীতিমতো বাড়ছে। কারণ তাঁদের অভিযোগ, বাজার থেকে একই গুণমানের পাইপ কম দামে পাওয়া যায়। তাহলে বেশি দাম দিয়ে কেন ডিলারদের থেকে নিতে হবে? ‘নিয়ম’ এবং ‘অনেক বেশি সুরক্ষিত’—এই যুক্তি কাগজে কলমে দেখালেও এই সমস্যা প্রসঙ্গে অবশ্য ডিস্ট্রিবিউটরদের সংগঠন অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশনও চুপ নেই। পাইপের উপর চাপানো ১৮ শতাংশ জিএসটির হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের কাছে আর্জিও জানিয়েছে তারা। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির এই পাইপের দাম জিএসটি সহ ১৮০ টাকা। করের হার কমলে গ্রাহকের সুরাহা হবে।
২০১৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানায়, রান্নার গ্যাসে ‘সুরক্ষা হোস’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক। তা গ্রাহককে কিনতে বলা হয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির ডিস্ট্রিবিউটদের থেকেই। কারণ, এই পাইপ তৈরি হয় সুরক্ষার সব দিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার পর। আর তা তৈরি করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এলপিজি ইক্যুইপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার। পাইপটির পেটেন্টও তাদের। বর্তমানে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, পাঁচ বছর অন্তর এলপিজি গ্রাহককে সুরক্ষা চেকিং করাতে হবে ডিস্ট্রিবিউটর অনুমোদিত কর্মীকে দিয়ে। পাইপের বয়স পাঁচ বছর হলে, তা বদলাতে হবে। কিন্তু তার জন্য গ্যাস বন্ধ? গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা বলছে, যাঁদের গ্যাসের পাইপ কেনার পর পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে, তাঁদের তা বদলানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। সিলিন্ডার ডেলিভারি পর্যন্ত বন্ধ করা হচ্ছে। বহু ক্রেতাই পাঁচ বছরের মধ্যে বাজার চলতি পাইপ কিনে ব্যবহার করছেন। সেটা কেন বিবেচনা করা হবে না? ‘যথাযথ সুরক্ষা’র যুক্তির পাশাপাশি মুদ্রার অন্য একটা পিঠও কিন্তু আছে। অভিযোগ, তেল সংস্থাগুলিও ডিস্ট্রিবিউটরদের পাইপ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিচ্ছে। সেই টার্গেট পূরণেই সিলিন্ডার ডেলিভারি বন্ধের পন্থা নিয়েছে ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশ। যদিও তার সরকারি নির্দেশিকা নেই। পাইপের দামও বাজারের থেকে বেশি। তাহলে গ্রাহক মানবে কেন? ফেডারেশনের কর্তাদের একাংশের কথায়, ‘খোলা বাজারে ও অনলাইনে সুরক্ষা পাইপ মিলছে ১০০ টাকা বা তার আশপাশে। কেন সেই পাইপ ১৮০ টাকায় আমাদের থেকে কিনতে হবে, সেই প্রশ্ন করছেন গ্রাহক। অথচ আমাদের কাছে এর সদুত্তর নেই।’