বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: গত ১৩ মে থাদৌ গির্জার তিন যাজকের মৃত্যুর পর নতুন করে উত্তপ্ত মণিপুরের কুকি-বহুল কাংপোকপি জেলা। জাতীয় সড়কে লাগাতার অবরোধের ফলে ব্যাহত পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকাশ ছুঁয়েছে। অভিযোগ, চালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। চড়েছে পেট্রলের দামও। রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার পিছু ৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। খাদ্য ও গণবণ্টন দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মণিপুরে রান্নার গ্যাস বা অন্যান্য পেট্রপণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রাজ্যে এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রপণ্যের সংকট নিয়ে ‘ভুয়ো তথ্য’ ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের এই দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কাংপোকপির সাইতু আসনের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী হাওখোলেত কিপজেনের দাবি, জেলায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ। যে কয়েকটি সিলিন্ডার রয়েছে, সেগুলি কালোবাজারে প্রায় ৫,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবরোধের আগে ৫০ কেজির চালের বস্তার দাম ছিল ১,৪০০ থেকে ১,৭০০ টাকা। তা বেড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। জেলার একটি নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৩ মে থেকে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরের সঙ্গে কাংপোকপিকে সংযুক্তকারী জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ দিয়েই পৌঁছায়। ফলে জোগানে সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনেকেই ইনডাকশন ওভেন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ফলে প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে যথাক্রমে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা ও ১৯০ টাকা। অবরোধের জেরে কাংপোকপি আসনের বিধায়ক তথা মণিপুরের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেন জাতীয় সড়ক হয়ে ইম্ফলে যেতে ভরসা পাচ্ছেন না। শপথ নেওয়ার চার মাস পরও ইম্ফলে সরকারের বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমেই অংশ নিতে হচ্ছে তাঁকে।



