নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূল কংগ্রেসের দিলীপ সাহা কি এবার সত্যিই পদত্যাগ করতে চলেছেন? বাড়িতে ডিম হামলার পর তিনি কী আর এই দায়িত্বে থাকতে চাইছেন না! শনিবার এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আগামী সোম-মঙ্গলবারই তিনি এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন। ডিম হামলার পর থেকে যেন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছেন তিনি। তার আগে পুরসভায় বিজেপির বিক্ষোভও হয়েছিল। এদিন নিজেই পদত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন দিলীপ।
নিজের বাড়িতেই এদিন ছিলেন দিলীপবাবু। সেখানেই তিনি বলেন, আমার পদত্যাগ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই একটা জল্পনা চলছে বলে শুনতে পাচ্ছি। মানসিকভাবে একটা প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন থাকে। আমি ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতৃত্বের কাছে সেই বার্তা পৌঁছেও দিয়েছি। রবিবার ছুটি রয়েছে। সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে আমি একটা সিদ্ধান্ত নেব।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে দিয়েছিল দল। এরপর সেখানে বসানো হয়েছিল দলের তৎকালীন জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ঘনিষ্ঠ দিলীপ সাহাকে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রবিবাবুকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে তিনদিন পর প্রথমে আমিনা আহমেদকে পুরাবোর্ডের ইনচার্জ করা হয়। এর ঠিক আটদিনের মাথায় দিলীপ সাহাকে চেয়ারম্যান করে তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিকে, ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা সহ রাজ্যজুড়ে একের পর এক মেয়র, চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে শুরু করেন। কিন্তু দিলীপ সাহা তাঁর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে পুরসভা ব্যাহত হচ্ছে, দিলীপবাবু পুরসভায় অনুপস্থিত থাকছেন ইত্যাদি অভিযোগ তুলতে শুরু করে বিজেপি। তাঁর বাড়িতে ডিম ছোড়া হয়। এরপরেই দিলীপবাবু এই পদত্যাগের ইঙ্গিত দিলেন। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মিনতি দাস বলেন, তিনি কোন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন তা আমার জানা নেই। তবে তিনি পদত্যাগ করলে শহরবাসী উপকৃত হবেন। কারণ, তিনি মানুষকে যেমন পুর পরিষেবা দিতে পারছেন না, তেমনি অস্থায়ী কর্মীদের নির্দিষ্টভাবে বেতন দিতেও ব্যর্থ।