


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টেস্ট ম্যাচে গ্যালারিতে উপচে পড়া ভিড়। এই ছবি ইংল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় দেখা যায়। ভারতের মাটিতে খুবই ব্যতিক্রমী। সেই কারণেই দু’দিন ধরে প্রশংসীত হচ্ছিল ইডেন। কিন্তু আড়াই দিনেই খেলা শেষের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পিচ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সবার ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে কিউরেটরের উপর। অসন্তোষ চাপা থাকছে না দর্শকদেরও। কেউ কেউ তো বলেই ফেললেন, এই ধরনের পিচ বানিয়ে ম্যাচ জেতা যাবে হয়তো, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের অপমৃত্যু হবে অচিরেই। অবিলম্বে বরখাস্ত করা হোক ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখার্জিকে। অতীতেও তিনি পিচ বিতর্কে জড়িয়েছেন। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্টে পিচ বিতর্কের দায় এড়াতে পারেন না কিউরেটর। কারণ, শেষ কথা তো তিনিই। অবশ্য ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচের উইকেট নিয়ে কম চাপানউতোর হয়নি। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর প্রথম দিন থেকেই পছন্দের পিচ চেয়ে চাপ তৈরি করছিলেন। জল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই দায় শুধু কিউরেটরের নয়, ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টেরও।
সুজনের পাশে দাঁড়িয়ে সিএবি’র শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট যেমন পিচ চেয়েছে, তেমনটাই দেওয়া হয়েছে। আমাদের উপর আস্থা না থাকায় বোর্ডের দু’জন কিউরেটরকে আনা হয়েছিল। তারাই নিয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমরাও পিচ নিয়ে হতাশ। রবিবার হাজার পঞ্চাশ দর্শক আসত মাঠে। কিন্তু এখন তো লাঞ্চ পর্যন্ত খেলা গড়াবে বলেই মনে হচ্ছে না।’
ছ’বছর পর কলকাতায় টেস্ট ম্যাচ ঘিরে সত্যিই দারুণ উন্মাদনা তৈরি হয়। কিন্তু ‘ডক্টর্ড’ পিচ সেটাকে এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে ভাবা যায়নি। বিরক্ত সিএবি’র কর্তারাও। কেউ কেউ বলছেন, ‘এটা হল কস্ট কন্ট্রোল পিচ।’ দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের পালা অব্যাহত। গত আইপিএলে পিচ নিয়ে কেকেআরের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছিলেন সুজনবাবু। ফের বিতর্কে সেই ইডেনের পিচ। আইসিসি’র রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। সামনের বছর রয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপ। তাই সিঁদূরে মেঘ দেখছেন অনেকেই।