সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ ঘিরে ফের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘন ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের পর এবার পরীক্ষার উত্তরপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্টের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বভারতীর কয়েকজন এমটিএস কর্মী শনিবার প্রধানমন্ত্রী তথা বিশ্বভারতীর আচার্য নরেন্দ্র মোসির কাছে ই-মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন। একই অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এবং জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের কাছেও। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণ লোপাট করতেই উত্তরপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি নষ্ট করা হয়েছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে ফোন ও মেসেজে যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ নীতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে গত মাসের শেষ দিকে জাতীয় তফসিলি কমিশনে দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক পদপ্রার্থী লিটন বিশ্বাস। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে রিপোর্টও চেয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরেই এবার নতুন এই অভিযোগ সামনে এসেছে। এই বিষয়ে লিটন বিশ্বাস বলেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে আমি অভিযোগ জানিয়েছিলাম। আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এমটিএস কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অভিযোগ জানিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। আমি চাই স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হোক এবং যারা বেনিয়ম করছে, তাদের শাস্তি হোক।
অভিযোগপত্রে নিজেদের বিশ্বভারতীর এমটিএস কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন কয়েকজন কর্মী। তাঁদের দাবি, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই উত্তরপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি নষ্ট করা হয়। আরও বলা হয়েছে, গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় পরীক্ষা শাখায় এক ডেপুটি রেজিস্ট্রার(এস্টাবলিশমেন্ট) উত্তরপত্র ও অন্যান্য নথি নিয়ে আসেন। তিনি কর্মীদের সেগুলি নষ্ট করার নির্দেশ দেন। অভিযোগ, তিনি জানান তৎকালীন চিফ সেক্রেটারির নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের অনুমোদনেই এই কাজ করা হচ্ছে। কর্মীদের দাবি, তাঁরা প্রথমে ওই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেন। কিন্তু সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর বাধ্য হয়ে তাঁরা উত্তরপত্র ও অন্যান্য নথি নষ্ট করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, পরে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা বুঝতে পারেন, প্রমাণ নষ্ট করতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে তদন্ত হলে নিম্নপদস্থ কর্মীদেরই দায়ী করা হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীক্ষা শাখা বা প্রশাসনিক ভবনে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোরও চেষ্টা হতে পারে। প্রাণনাশ ও হেনস্তার আশঙ্কায় অভিযোগকারীরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।