নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: সরকারি হাসপাতালেই চুক্তিভিত্তিক মহিলা কর্মীকে ব্ল্যাকমেল করে দীর্ঘ সাতবছর ধরে ধর্ষণ! এমনই অভিযোগ উঠল প্রাক্তন সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশকর্মী হিসাবে কর্মরত। সোমবার রাতে বীরভূমের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে মঙ্গলবার সিউড়ি আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী মোক্তাব হোসেন জানান, বিচারক ধৃতের চারদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনায় জেলাজুড়ে শোরগোল পড়েছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্যাতন, খুনের হুমকির মতো একাধিক অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে তিনি জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে কাজ করছেন। ধৃত ব্যক্তি সেই সময় ওই হাসপাতালে সুপারভাইজার পদে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে দেউচা-পাচামি কয়লাখনি প্রকল্পের জমিদাতা হিসেবে তিনি রাজ্য পুলিশের জুনিয়র কনস্টেবল পদে চাকরি পান। অভিযোগ, ২০১৯সাল থেকে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ফাঁকা ঘর ও নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করেছেন। নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিল। নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করেও দিনের পর দিন ওই মহিলার উপর অত্যাচার চালানো হত। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, লোকলজ্জা আর প্রাণনাশের ভয়ে এতদিন পুরো বিষয়টি চেপে রেখেছিলেন ওই মহিলা।
কিন্তু দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তিনি অবসাদে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সেসময় তাঁর স্বামী বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপরই সমস্ত সত্য উদ্ঘাটিত হয়। সোমবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। রাতেই পুলিশ তৎপর হয়ে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে পাকড়াও করে।