


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কমেছে। ২০২২ সালের জুন মাসে বলা হয়েছিল, দেড় বছরে ১০ লক্ষ সরকারি চাকরি হবে। সেই লক্ষ্যমাত্রা আদৌ পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সরকারি স্তরে উচ্চবাচ্য নেই। ফেব্রুয়ারি মাসের বেকারত্বের হার আবার ঊর্ধ্বগামী। এই পরিস্থিতিতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এক নতুন প্রবণতা। গত বছর থেকেই মোদি সরকারের কর্মসংস্থানের নতুন প্রচার কেন্দ্রীভূত হচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ঘিরে। তাদের নিয়ে দিল্লিতে সম্মেলন করেছে সরকার। পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়েছে। এমনকি উৎসাহ প্রকল্প পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বাজেটেও। দেশের ১৫ হাজার স্কুল, ৫০০ কলেজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাবরেটরি তৈরির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাবিধ ভিডিয়ো, রিল বানানোই এখন মোদি সরকারের কাছে কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান পন্থা। এবার দেশে ক্রমবর্ধমান সেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রজন্মের আয় বাড়াতেও পাশে দাঁড়াল মোদি সরকার। ফেসবুক-ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে নির্দেশিকা দেওয়া হল— তারা যেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মুনাফার ভাগ দেয়। বৃহস্পতিবার একথা জানান কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে আয়ের ভাগ দিতে হবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের।
সংবাদ, বিনোদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান, খেলা, গবেষণা, ভ্রমণ ইত্যাদি বৈচিত্রময় বিষয়ে ভারতের নাগরিকরা কনটেন্ট তৈরি করে ওই সব প্ল্যাটফর্মে আপলোড করছে। সেগুলি ডিজিটাল পরিভাষায় ‘ভাইরাল’ও হচ্ছে। তা থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ রাজস্ব আয় করছে ওই সব প্ল্যাটফর্ম। বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েটররা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থও দেওয়া হয়। কাজেই দেশের বিপুল অংশের মানুষের কাছে এখন আলেয়ার মতো এক মোহিনী আহ্বান হল—রিলস তৈরি করা, ইউটিউব চ্যানেল খোলা, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম বিজনেস পেজ বানিয়ে সেখানে কনটেন্ট আপলোড করা। এটাই এখন আয়ের সহজতম উপায়ে পরিণত হয়েছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, এই বিপুল কনটেন্ট থেকে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলি যে রোজগার করছে, তার একাংশ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে।
জানা যাচ্ছে, নিছক নির্দেশিকায় সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি আইনের রুলস বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ওই সব কোম্পানিকে রাজস্ব ভাগ কী শর্তে করতে হবে, তা থাকবে নতুন বিধিতে। ব্যক্তিগত অথবা সংস্থাগত, উভয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে এই বিধি। দেশের প্রায় সাড়ে ৩০ লক্ষ সক্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য এটা সত্যিই সুখবর। বর্তমানে সবথেকে বেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রয়েছেন ইনস্টাগ্রামে। এরপর ইউটিউব। ৪৮ শতাংশ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর। যদিও কন্টেন্ট ক্রিয়েশনই একমাত্র পেশা মাত্র ১৩ শতাংশের। সরকার চাইছে, কনটেন্ট ক্রিয়েশন যাতে সম্পূর্ণ একটি সোস্যাল মিডিয়া শিল্পে পরিণত হয়। সেই কারণেই এই উদ্যোগ। যদিও বিদেশি সংস্থাগুলি এই বিধিকে কতটা গ্রহণ করতে রাজি হবে, সেব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।