Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড়মাস আগে থেকেই রথ তৈরি শুরু হয় নবদ্বীপের রানিরচড়ায়

নবদ্বীপের রানিরচড়ায় রথ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ১৫০টি রথ তৈরি হবে, ঐতিহ্যবাহী শিল্পের বিকাশের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

দেড়মাস আগে থেকেই রথ তৈরি শুরু হয় নবদ্বীপের রানিরচড়ায়
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রথযাত্রা এলেই নবদ্বীপের বিভিন্ন কারিগরপাড়ায় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। রানিরচড়া এলাকার চাকিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বটতলাপাড়া, নিত্যকালীতলায় রথ তৈরি অন্যতম কুটিরশিল্প। প্রায় ৩০টির বেশি পরিবার বংশপরম্পরায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। রথযাত্রার প্রায় এক-দেড়মাস আগে থেকেই বাড়ির উঠোনে কাঠ কাটা, ঘষামাজা, জোড়া লাগানো ও রথ তৈরির পর রংয়ের কাজ চলে। গামারি, আম, মেহগনি, আকাশমণি ও কদমগাছের কাঠ এবং প্লাইউড দিয়ে এক থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতার নানা ধরনের রথ তৈরি হয়। ছোট রথের দাম ১০০-১৫০ টাকা থেকে শুরু হয়। বড় ও কারুকার্য করা রথের দাম ৩৫০০-৪০০০টাকায় পৌঁছায়। রথের গায়ে পটচিত্র আঁকা হয়। তাতে জগন্নাথের রথযাত্রার নানা ছবি ফুটে ওঠে। এখানকার তৈরি রথ পাইকারদের মাধ্যমে শান্তিপুর, কাটোয়া, দুর্গাপুর, ধুবুলিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যায়। এছাড়া, নবদ্বীপের পোড়ামাতলার রথের মেলাও রথ বিক্রির অন্যতম বড় কেন্দ্র। রানিরচড়ার বাসিন্দা স্বরূপ শর্মা বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এখন সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের ফাঁকে রথ তৈরি করি। এবছর প্রায় ১৫০টি রথ বানিয়েছি। রথের মেলায় ভালোই বিক্রি হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে বৃষ্টি হলে একটু লাভের আশা মাঠে মারা যাবে বলে ভয় পাচ্ছি। রূপা শর্মা জানান, বাড়ির পুরুষরা কাঠের কাজ করেন। আর মহিলারা রথে রং করেন। পড়াশোনার ফাঁকে সন্তানরাও এই কাজে হাত লাগায়। প্রবীণ শিল্পী রমা শর্মা বলেন, চার দশকের বেশি সময় ধরে রথ রং করার কাজ করছি। শিল্পী গণেশ রায় বলেন, ছোটবেলা থেকে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত আছি। কিন্তু এখনো কোনো সরকারি সহায়তা মেলেনি। সরকারি সাহায্য পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরো এগিয়ে যাবে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল রাজবংশী জানায়, দাদুর সঙ্গে আমিও হাতুড়ি-বাটালি দিয়ে কাঠ কেটে রথ তৈরি করি। মা সেই রথ নানা রঙে সাজিয়ে তোলেন। এবার পড়াশোনার ফাঁকে প্রায় ৫০টা রথ তৈরি করেছি। 

Advertisement

নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, রানিরচড়ার বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে রথ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আরও বিস্তৃত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ