সংবাদদাতা, বহরমপুর: বেলডাঙায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নির্মীয়মাণ ফ্লাইওভার এখন স্থানীয়দের কাছে নরক যন্ত্রনা হয়ে উঠেছে। কাজের গতি নিয়ে এখন ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির উপর ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় মানুষের দাবি, অতি ধীর গতিতে কাজ চলছে। প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও এখনও কুড়ি শতাংশও কাজ হয়নি। অথচ জমিজট নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এদিকে ফ্লাই ওভারের কাজের কারণে স্থানীয়রা জাতীয় সড়কের যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সোম ও মঙ্গলবার হাটের দিন যানজট সমস্যা তীব্র আকার নিচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দু’পাশের যানজট মোকাবিলায় পুলিশ কর্মীদের কালঘাম ছুটছে। সবার মুখে একই প্রশ্ন, আর কতদিন এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে? জাতীয় সড়কের কৃষ্ণনগর ডিভিশনের এক আধিকারিক জানালেন, প্ল্যান অনুয়ায়ী কাজ হচ্ছে। বর্ষা তাই কাজের গতি একটু কম রয়েছে। বর্ষা কাটলেই কাজে গতি আসবে।
১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অতি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা হিসাবেই চিহ্নিত। বড়ুয়া মোড়ের জাতীয় সড়ক থেকে একদিকে বেলডাঙা ঢোকার মুল প্রবেশ পথ গিয়েছে। উলটো দিকে কুমারপুর ঢোকার রাস্তা রয়েছে। বড়ুয়া মোড়ের চার মাথায় কোনো নিকাশি ব্যবস্থা নেই। জাতীয় সড়কের উপর অবৈধ প্রচুর দোকান গজিয়ে ওঠায় ওই এলাকা যেমন জনবহুল ছিল পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসস্ট্যান্ড, পণ্যবাহী লরির চাপে যানজট সামাল দেওয়া মুশকিল হতো। দুর্ঘটনা এবং তার জেরে রাস্তা অবরোধ বেলডাঙাবাসীর প্রতিদিনের কর্মসূচি হয়ে পড়েছিল।
সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসে এনএইচএআই কর্তৃপক্ষ বেলডাঙা থানা মোড় থেকে মার্কাস মসজিদ পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। অবৈধ দোকানদারদের উচ্ছেদ করে জায়গা খালি করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ শুরু করে। এক কিমি দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভার অ্যাপ্রোচ রোড সহ কংক্রিটের পিলার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য আপাতত দু’দিকে যাতায়াতের দুটি রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। আর এই দুই রাস্তাই এখন বেলডাঙাবাসীর কাছে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান গনি বলেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় কাজ খুবই মন্থর গতিতে চলছে। যার ফলে মানুষের দুর্ভোগ প্রতিদিন বাড়ছে। স্বাভাবিক কারণেই সকলে ধৈর্য্য হারাচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আকিমুল ইসলাম বলেন, এতদিন ধুলোয় দোকানে বসা দায় ছিল। এখন জল কাদায় ব্যবসার বেহাল অবস্থা। ফ্লাইওভার হলে সবার সুবিধা হবে। তার আগে কতদিন এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে জানিনা। জাতীয় সড়ক ঘেঁষে রয়েছে বেলডাঙার বিখ্যাত কাপড় ও পশু হাট। প্রতি সোমবার সারা রাত কাপড়ের হাট খোলা থাকে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় পশু হাট। এই দুদিন সব থেকে বেশি যানজট সমস্যা হয়। হাট মালিক নাজমে আলম বলেন, সারা রাজ্য থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। তাঁদের নিরাপত্তা দিতে পারিনা। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের আবেদন কাজে গতি এনে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করা হোক।