শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলার মাঠে ফের পাঁচিল দেওয়া শুরু, ক্ষুব্ধ আশ্রমিকরা
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বিতর্কের রেশ কাটেনি। তার মধ্যেই শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলার মাঠে ফের শুরু হল পাঁচিল দেওয়া। মাঠের বাকি দুই দিক ঘিরে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে আশ্রমিকদের একাংশের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে ধীরে ধীরে শান্তিনিকেতনের উন্মুক্ত পরিবেশ ও ঐতিহ্যকে সংকুচিত করা হচ্ছে। এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, মেলার মাঠের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই বাকি অংশে নীচু প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে। বাকি অংশে থাকবে তারের বেড়া। আগে মাঠের অনেকটা অংশ ঘিরে দেওয়া হলেও কিছু জায়গা ফাঁকা ছিল। সেই পথে গোরু ও অন্যান্য প্রাণী মাঠে ঢুকে পড়ত। ফলে মাঠ অপরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল।

Advertisement

এর আগে মেলার মাঠ সংলগ্ন বিদ্যাভবন থেকে পূর্বপল্লির ইন্টারন্যাশনাল গেস্ট হাউস পর্যন্ত পাঁচিল দেওয়া হয়েছিল। এ বার মাঠের বাকি দুই অংশে কাজ শুরু হয়েছে। একদিকে শান্তিনিকেতন থানার সামনের গেট থেকে নিশা হোটেলের সামনের গেট পর্যন্ত, অন্যদিকে পূর্বপল্লির পূরবী গেট থেকে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় দপ্তর পর্যন্ত পাঁচিল তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের এই অংশে কেবল কংক্রিটের স্তম্ভ ছিল। কয়েক মাস আগে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষের নির্দেশে সেখানে বাঁশ ও তারের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী ভাবে ঘিরে দেওয়া হয়। এ বার সেই জায়গাতেই কংক্রিটের পিলার দিয়ে ইটের পাঁচিল দেওয়া হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন আশ্রমিকদের একাংশ। প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, শান্তিনিকেতনের খোলামেলা পরিবেশ ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক বেড়া ও পাঁচিল তুলে এই জায়গাকে আবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে। এই প্রবণতা শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য রক্ষার ভাবনার পরিপন্থী। একই সুর শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনারের গলাতেও। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করা। অথচ কর্তৃপক্ষের আগ্রহ যেন পাঁচিল দেওয়া ও রাস্তা বন্ধ করার দিকেই বেশি। বিষয়টি যথেষ্ট হতাশাজনক।
প্রসঙ্গত, পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়া নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২০ সালে বিশ্বভারতীর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছিল। মাঠের একাংশে পাঁচিল দেওয়া শুরু হতেই স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পড়ুয়াদের একাংশ প্রতিবাদে শামিল হন। সেই সময় প্রাচীর নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। ভাঙচুরও হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির হস্তক্ষেপে পাঁচিল ও বেড়া নির্মাণের কাজ এগয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে মেলার মাঠের সীমানা নির্দিষ্ট করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।