নয়াদিল্লি: ‘গণতন্ত্রে সংবিধানই শেষ কথা। আইনসভা, শাসন ও বিচারবিভাগ— তিনটি স্তম্ভকেই এর অধীনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনও শাখাই কারও থেকে বড় নয়।’ বুধবার ফের এই মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। সম্প্রতি বিজেপি এবং সরকারের অন্দর থেকে বারবার সংসদকেই বিচার ব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠা করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। বিতর্ক আরও বেড়েছে মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়া বিলে রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের সময়সীমা সুপ্রিম কোর্ট বেঁধে দেওয়ার পর।
এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘অনেকেই বলেন এবং বিশ্বাস করেন যে, সংসদই সর্বোচ্চ। কিন্তু আমার কাছে ভারতের সংবিধানই রয়েছে শীর্ষস্থানে।’ ১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতী মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনেছেন তিনি। ঐতিহাসিক সেই রায়ে বলা হয়েছিল, সংসদে বিল পাশ করে সংবিধানের মূল কাঠামোর বদল বা ধ্বংস করা যাবে না। এই রায়ে সংসদের উপর সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্বই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
কাকতালীয়ভাবে বুধবারই ছিল জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে সংসদ এবং বিচারবিভাগের উপর কী ধরনের আক্রমণ নেমে এসেছিল, তা সবিস্তারে প্রচার করেছেন বিজেপি নেতারা। আর সংবিধানের গৌরব প্রতিষ্ঠার জন্য এই দিনটিকেই বেছে নেন প্রধান বিচারপতি।
গুজরাতে তাঁর নিজের জেলা অমরাবতীর একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শুধু সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে কোনও বিচারপতি স্বাধীন হতে পারেন না। সব কিছু ভুলে বিচারপতিদের কর্তব্য পালন করতে হবে। কোনও রায় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হবে, সে কথা ভাবলেও চলবে না।’