Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ইন্ডিয়া জোটে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হবে কংগ্রেসকেই: মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে বিরোধী জোটের নেতৃত্ব নিতে বললেন। বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াইয়ের প্রয়োজন। বিস্তারিত পড়ুন।

ইন্ডিয়া জোটে নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হবে কংগ্রেসকেই: মমতা
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বাংলায় বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর শেষমেশ কংগ্রেসকেই বিরোধী জোটের নেতৃত্বে মেনে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বসেছিল মোদি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। যেখানে হাজির ছিল ২২ দলের ৩৯ জন নেতানেত্রী, সাংসদ। ব্যক্তিগতভাবে বৈঠকে সোনিয়া, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, জয়রাম রমেশর পাশাপাশি হাজির ছিলেন তৃণমূলের মমতা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলের মতো ৩৫ জন। অনলাইনে যোগ দেন উদ্ধব, আদিত্য থ্যাকারে, সঞ্জয় রাউত, হেমন্ত সোরেন। 
বৈঠকে মমতাকে দেখেই জড়িয়ে ধরেন সোনিয়া গান্ধী। বাংলার ভোটে হারে বিধ্বস্ত মমতাকে ফের চাঙা হওয়ার শক্তি দেন। বলেন, কুছ নেহি। সব ঠিক হো যায়েগা। বৈঠকে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে রিগিং করে বিজেপি জিতেছে বলেই অভিযোগ করেন মমতা। ভোটের পর যেভাবে বুলডোজার দিয়ে গরিব হকারদের দোকান, বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার উল্লেখ করে বলেন, বাংলায় আর বিজেপি গণতন্ত্র বলে কিছু রাখল না। তাই এখন কংগ্রেসকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে কার্যত অস্বীকার করেছিল তৃণমূল। এখন ভোটে হেরে সম্বিত ফিরেছে মমতার। তাই এখন কংগ্রেসকেই অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মন্তব্য, এখন আমি মুখ্যমন্ত্রী নেই। ফলে এখন আমাকে ইন্ডিয়া জোট যেখানেই যখন ডাকবে, আমি চলে আসব। তবে কংগ্রেসকেই ইন্ডিয়া জোট বেঁধে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে অখিলেশ যাদব বলেছেন, কংগ্রেস অগ্রণী ভূমিকা নেবে ঠিকই। তবে বড় দল হিসাবে দিলও দরাজ হতে হবে। 
প্রত্যুত্তরে রাহুল গান্ধী জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেস সবাইকে নিয়েই চলতে যায় কিন্তু মাঝেমধ্যেই কোনো কোনো দল ছিটকে যায়। যদিও সেসব সহন করার শক্তি কংগ্রেসের আছে। কংগ্রেস জানে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়। তবে ২০২৯ সালে যদি সত্যিই নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতাচ্যূত করতে হয়, তাহলে এখন থেকেই সবাইকে শপথ নিতে হবে যে, আমরা প্রকৃতই একজোট থাকব। এদিনের দু ঘণ্টার উপর বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী কোনো কথা বলেননি। বৈঠকে মমতাকে বাঁপাশে রেখে বসেন সোনিয়া। ডানদিকে খাড়্গে, তারপর রাহুল। 
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও স্রেফ বিবৃতি দিয়েই শেষ করে দেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। ডানপাশে মমতা, বাঁয়ে রাহুলকে রেখে খাড়্গে জানান, আমরা এখন থেকে প্রতি দু মাস অন্তর বৈঠকে বসব। সেই মতো আগস্টে বৈঠক হবে হায়দরাবাদে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে হবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন প্রতিদিন বৈঠক করবে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। যেভাবে মোদি সরকার ছাত্র, যুবকদের সর্বনাশ করছে, তার প্রতিবাদে আমরা সরব হব। 
ভোট চুরির পাশাপাশি যেভাবে অন্যায়ভাবে এসআইআরের নামে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেওয়া হবে। বৈঠকের পর ছিল বিরোধীদের লাঞ্চ। কিন্তু যেখানে যোগ দেননি মমতা, অভিষেক। বৈঠক শেষ হতেই তড়িঘড়ি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে যান মমতা।

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ