হাইকোর্টের নির্দেশে ঝালদার মাড়ুমসিনা পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন করল কংগ্রেস
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝালদা: হাইকোর্টের নির্দেশে নির্ধারিত দিনেই বোর্ড গঠন হল পুরুলিয়ার ঝালদার মাড়ুমসিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে। বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হলেন যথাক্রমে কংগ্রেসের প্রিয়াংকা মণ্ডল ও রোহিন কুমার। এই ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, প্রশাসনিক কারণে আগের নির্ধারিত দিনের সভা বাতিল হওয়ায় তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালতের নির্দেশের পরেই নতুন করে নির্বাচনের দিন ধার্য হয়।

Advertisement

পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েতে প্রথমে কংগ্রেসের পাঁচ, তৃণমূলের তিন, নির্দল দু’টি এবং আজসুর একজন সদস্য জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূলের দুই ও নির্দলের দুই সদস্য কংগ্রেসে যোগ দেন। এই পরিস্থিতিতে গত ১৩ আগস্ট তৎকালীন প্রধান উর্মিলা নায়ক ও উপপ্রধান নুনিবালা কালিন্দীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন কংগ্রেস সদস্যরা। এর পরেই ওই দুই পদাধিকারী পদত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে গত ১ অক্টোবর নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, ওইদিন সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও আইনশৃঙ্খলাজনিত কারণ দেখিয়ে প্রশাসন সভা বাতিল করে। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস সদস্যরা। কংগ্রেসের দাবি, আদালতের নির্দেশে বিডিও অফিস থেকে নতুন নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। সেইমতো এদিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিনের সভায় সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সমর্থনে প্রিয়াংকাদেবী  প্রধান এবং রোহিনবাবু উপপ্রধান নির্বাচিত হন বলে কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে।
নবনির্বাচিত উপপ্রধান রোহিনবাবু জানান, প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাঁদের ভয় দেখানো এবং বোর্ড গঠনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নির্বাচনের দিন আদায় করেছেন। দলের সদস্যদের ভাঙানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কোনো প্রলোভনে পা দেননি।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ফণীভূষণ কুমারের অভিযোগ, অনাস্থার মাধ্যমে পঞ্চায়েতের ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বোর্ড দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি। ঝালদার পঞ্চায়েত সমিতিগুলিতে কংগ্রেসের সাফল্যের পর মাড়ুমসিনা গ্রাম পঞ্চায়েতেও দলের শক্তি প্রতিষ্ঠিত হল। 
বিজেপির মণ্ডল-১ সভাপতি সঞ্জয় সিং দেও বলেন, কংগ্রেসের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই পঞ্চায়েতে আগে থেকেই কংগ্রেসের প্রধান উপপ্রধান ছিল। নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগিতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই নিয়ে অনাস্থা হয়েছিল। এখানে বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। আমরা প্রশাসনের দ্বারা কোনো চাপ সৃষ্টি করি না। কংগ্রেসের হাইকোর্টে যাওয়া সব লোক দেখানো। কংগ্রেস হল মার্কেটের অচল পয়সা। তাই এই অচল কংগ্রেস, তৃণমূল ও সিপিএম এখন এক জোট হয়েছে। খুব জোর এক থেকে দেড় বছর চলবে। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে সমস্ত পঞ্চায়েতে বিজেপি বোর্ড গঠন করবে। সব দল ধুয়ে 
মুছে যাবে।