Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাউন্সিলাদের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে পুরুলিয়ায়

ফের পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাউন্সিলারদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। গত সোমবার পুরবোর্ডের সদস্যদের নিয়ে পুরসভায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাউন্সিলাদের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে পুরুলিয়ায়
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ফের পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কাউন্সিলারদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল। গত সোমবার পুরবোর্ডের সদস্যদের নিয়ে পুরসভায় একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এনিয়ে কাউন্সিলাররা চেয়েছিলেন নিজেদের মধ্যে আগে একপ্রস্থ আলোচনা করতে। তারপর বিষয়টি বোর্ডে তুলতেন তাঁরা। যদিও কাউন্সিলারদের ক্ষোভ, দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁরা অপেক্ষা করলেও চেয়ারম্যান আলোচনায় বসেননি। চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, আমি ওইদিন খুবই অসুস্থ ছিলাম। অসুস্থ শরীরেও কাউন্সিলারদের জন্য মিটিং হলে অপেক্ষা করছিলাম। তাঁরা কাউন্সিলার রুমে রয়েছেন শুনে ডাকতেও পাঠিয়েছিলাম। যদিও তাঁরা আসেননি। কাউন্সিলাররা গড়িমসি করছিলেন। আমারও অসুস্থতার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই বেরিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। আমি সুস্থ হলে ফের বৈঠক ডাকা হবে। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের কোথায় কী উন্নয়নমূলক কাজ হবে তার একটি রূপরেখা তৈরির জন্য সোমবার দুপুরে ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেইমতো দু’-তিনজন বাদে শাসকদলের বাকি কাউন্সিলাররা বৈঠকে যোগ দিতে পুরসভায় এসেছিলেন। কাউন্সিলারদের জন্য যে ঘর রয়েছে সেখানেই অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। কাউন্সিলাররা চাইছিলেন, চেয়ারম্যান তাঁদের কাছে আসুক। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তাঁদের যেসব দাবিদাওয়া আছে সেগুলি নিয়ে আলোচনা হোক। তারপর বোর্ডের মিটিংয়ে রেজ্যুলিউশন করে তা পাশ করা হবে। 
কাউন্সিলার সুনয় কবিরাজ বলেন, পুরসভায় কিছু ত্রিপল এসেছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রায় পাঁচ হাজার মশারি এসেছে। যদিও ওয়ার্ড পিছু তা সমবণ্টন হয়নি। কয়েক হাজার মশারি গুদামে পড়ে নষ্ট হতে বসেছে। তা যাতে সমস্ত ওয়ার্ডে ভাগ করা হয় সেব্যাপারে চেয়ারম্যানকে বলার ছিল। ভাইস চেয়ারম্যান ময়ূরী নন্দী বলেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের জন্য প্রচুর টাকা এসেছে। ওয়ার্ড পিছু যা যা কাজ বকেয়া আছে তার সিংহভাগই ওই টাকায় হয়ে যাওয়ার কথা। কোন ওয়ার্ডে কত টাকা বরাদ্দ হবে তা আমরা জানতে পারলে কী কী কাজ হবে তার একটা আন্দাজ পেতাম। এসব ব্যাপারেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা করার ছিল। যদিও তিনি আসেননি। মিটিংও হয়নি। কাউন্সিলার রবিশঙ্কর দাস বলেন, বোর্ড মিটিংয়ে সরকারি আধিকারিক থেকে বিরোধীরাও থাকেন। তাই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা আলাদাভাবে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। 
তবে চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়িয়ে এক কাউন্সিলার অবশ্য বলেন, কাউন্সিলারদের ঘরে তো পুরসভার বিরোধী দলনেতাও ছিলেন। দলের কাউন্সিলারা তাঁর সঙ্গে খোসগল্পে মজেছিলেন। সেখানে গিয়ে কাউন্সিলারদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করা চেয়ারম্যানের হয়তো উচিত মনে হয়নি। সম্ভবত সেকারণেই তিনি যাননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ