Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন ভোটার হতে অনলাইনে আবেদন করেও মিলছে না শুনানির ডাক, উদ্বেগ

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেও সাড়া পাওয়ার যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে বহু মানুষের ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নতুন ভোটার হতে অনলাইনে আবেদন করেও মিলছে না শুনানির ডাক, উদ্বেগ
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: নতুন ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেও সাড়া পাওয়ার যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফলে বহু মানুষের ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঘাটাল মহকুমা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, এমনটা হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Advertisement

যে সমস্ত নতুন ভোটারের আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত রয়েছে, তাঁরা নির্বাচন দপ্তরের ‘https://voters.eci.gov.in/’ পোর্টালে গিয়ে ৬ নম্বর ফর্মে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। অনলাইনে আবেদন জমা পড়লেই ফর্মটি ডাউনলোড করার সুযোগ মেলে। ওই ফর্মেই ২২ সংখ্যার একটি প্রাপ্তিস্বীকার নম্বর থাকে। মূলত যে সমস্ত পড়ুয়া বা যুবক-যুবতী মহকুমার বাইরে থাকেন অথবা ব্যস্ততার কারণে বিএলওর কাছে গিয়ে অফলাইনে ফর্ম জমা দিতে পারেন না, তাঁরাই অনলাইনে আবেদন করেন। তাছাড়া নিজে ফর্ম পূরণ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এই ভাবনা থেকেও অনেকে অনলাইনে আবেদন করছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনও নতুন ভোটার অনলাইনে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিসের সরকারি পোর্টালে দ্রুত ‘নোটিফিকেশন’ পৌঁছে যায়। বিডিও অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অনলাইনেই সেই ভোটারের আবেদনটি ‘পার্ট অ্যাসাইন’ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলওর কাছে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই শুনানি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। ফলে অনলাইনে আবেদন করে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। দিনের পর দিন কেটে গেলেও শুনানির ডাক মিলছে না।

২৩০-দাসপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ২৬২-পলাশপাই ভগবতী বালিকা বিদ্যালয়ের হবু ভোটার জয়িতা দাসকর্মকার জানান, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পড়াশোনার চাপে বাড়ি থেকেই ১৫ জানুয়ারি অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানির কোনও নোটিস পাননি। বিএলওকে জিজ্ঞেস করেও কোনও সদুত্তর পাননি। ফলে  ৩১ তারিখে নিজেই বিডিও অফিসে যোগাযোগ করে শুনানির ব্যবস্থা করেন। অথচ তাঁরই সহপাঠীরা যাঁরা অফলাইনে পরে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের শুনানি আগেই মিটে গিয়েছে।

ওই বিধানসভারই ৩৮-দুবরাজপুর নেতাজি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুথের বিবেক আদক, সাথী ঘোড়ইদের মতো অনেককেই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাঁরা জানান, অনলাইনে আবেদন করে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থানীয় বিএলওর উদ্যোগে বিডিও অফিস থেকে ‘পার্ট অ্যাসাইন’ করিয়ে তবেই তাঁদের শুনানির ব্যবস্থা হয়েছে। এই বিষয়ে ২৬-পলাশইপাই ভগবতী বালিকা বিদ্যালয় বুথের বিএলও সুমিত্রা মাইতি, ৩৮-দুবরাজপুর নেতাজি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিএলও পার্থ কর্মকার জানান, বিডিও অফিস থেকে ‘পার্ট অ্যাসাইন’ না করে দিলে অনলাইনে করা আবেদন সম্পর্কে তাঁরা জানতে পারেন না। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তবেই তাঁরা আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুনানির ব্যবস্থা করতে পারেন।

ওই দুটি উদাহরণ মাত্র! ঘাটাল মহকুমার তিনটি বিধানসভা এলাকাতেই এই ধরনের ঘটনা বহু রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ