নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের আরো ছয় আইএএস অফিসারকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। তাঁদের তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ওই ছয়জন আইএএস অফিসারের মধ্যে রাজ্য সরকারের দুজন সচিবও রয়েছেন। বৃহস্পতিবারই ওই ছয়জনকে তামিলনাড়ুর নির্দিষ্ট জায়গায় কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়। এই আবহেই ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ ব্যাচের আইএএস প্রীতি গোয়েল, ২০১৪ ব্যাচের সিয়াদ এন, ২০১০ ব্যাচের অরবিন্দকুমার মিনা, ২০০৯ ব্যাচের রানি এ আয়েশা, ২০০৬ ব্যাচের পি উলাগানাথন, ২০১৩ সালে আইএএস শামা পরভিনকে তামিলানাড়ুতে পাঠিয়েছে কমিশন। এই ছয়জনকেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় ভোট পর্যবেক্ষকের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএএস উলাগানাথন এবং শামা রাজ্য সরকারের সচিব পদের দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়াও জানা গিয়েছে, রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোটের কাজে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল কমিশন। পরে কমিশন সূত্রে জানা যায়, তালিকায় থাকা পাঁচ আইপিএস অফিসারের জন্য ওই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না। ওই পাঁচজনের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। তবে রাজ্যের বাকি অপসারিত ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরানো নির্দেশই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে যেতে হবে।
এসবের প্রেক্ষিতেই জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও এখনো কোনো অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। প্রক্রিয়ায় যত দেরি হবে, তত ভোটারদের অভিযোগ জানানোর সময় কমবে। ডিইওদের বদলি এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। নতুন ডিইওদের সমস্যা হচ্ছে। এটা কি গণতন্ত্রের প্রহসন নয়?’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেছেন, আমলা, আধিকারিকদের বদলিতে রাজ্যের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। মার্চ-এপ্রিল ঝড়বৃষ্টির সময়। প্রায় প্রতিবছরই দুর্যোগে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার কাজ তদারকি করেন রাজ্য প্রশাসনের সিনিয়র আধিকারিকেরা। তাঁদের বদলে দেওয়ার ফলে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমস্যা হবে বলে আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর।
অন্যদিকে, এদিন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি আইনশৃঙ্খলা এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছেন রাজ্যপাল। বিকেলে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল। ঈদ ও রাম নবমী যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনকে। ওইসঙ্গে এলাকায় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ থেকে শুরু করে ভোট সংক্রান্ত সমস্ত কাজ সুষ্ঠু ভাবে যাতে হয়, তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।