Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কোর্টের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে নাম বাদ কমিশনের: মমতা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে লুকিয়ে লুকিয়ে (পড়ুন ‘ছুপা ছুপাকে’) নাম বাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

কোর্টের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে নাম বাদ কমিশনের: মমতা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে লুকিয়ে লুকিয়ে (পড়ুন ‘ছুপা ছুপাকে’) নাম বাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর নিয়ে উত্তপ্ত আবহে ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্ক সংলগ্ন এলাকায় সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনকে ‘ছুপা রুস্তম’ বলে কটাক্ষও ছুড়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এ রাজ্যে কতজনের নাম বাদ যাবে ভোটার তালিকা থেকে, বিধানসভা ভোটের মুখে এখন এটাই বড় প্রশ্ন। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যেতে পারে। 

Advertisement

বুধবার ভবানীপুরে জৈন ধর্মাবলম্বীদের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। সেখানে এসআইআর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছিল। পরে রুলসে না থাকলেও লুকিয়ে লুকিয়ে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ৫০ লক্ষের জায়গায় ৮০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। তার মধ্যে যদি ধরেও নিই যে ২০ লক্ষ মৃত ভোটার, তাহলেও দেখেশুনে মনে হচ্ছে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দিতে পারে।’
এসআইআর পর্বে একজনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মামলার প্রেক্ষিতে এখন সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতেই চলছে বাংলায় এসআইআর। কিন্তু মমতা বলছেন, ‘১৪ ফেব্রুয়ারির পরও নির্বাচন কমিশন লুকিয়ে লুকিয়ে নাম কাটছে। লগ-ইন আইডি ওদের কাছে আছে। জানি না, ২৮ ফেব্রুয়ারির যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, তখন কত লোকের নাম বাদ দেবে!’ মমতা আরও বলেন, ‘কার নাম বাদ যাচ্ছে—হিন্দু, মুসলিম, শিখ না জৈন, সেসব আমি দেখি না। কিন্তু বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গণতন্ত্রকে বরবাদ হতে দেবেন না।’ ২৮ তারিখ তালিকা প্রকাশের পর বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে যে যথেষ্ট চিন্তার কারণ আছে বলে মনে করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘আমি এই জৈন মানস্তম্ভের কাছে ন্যায়ের জন্য প্রার্থনা করে যাচ্ছি। যদি সফল হ‌ই, এখানে এসে আবার মাথা ঠেকাব।’ এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁদের জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন মুখ্যমন্ত্রী। 
এদিকে, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই কমিশনের পক্ষে আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজগুলি করাতে হবে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেরও। তার মধ্যেই এদিন নতুন করে আরও নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। 
এদিন অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে জৈন ‘মানস্তম্ভ’ ও সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বার গেটের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন জেলার একগুচ্ছ প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। সব মিলিয়ে ৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প। 

সম্পর্কিত সংবাদ