নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি হাসপাতালের রোগী ও বাড়ির লোকজনের হাতে নির্দিষ্ট রংয়ের ব্যান্ড থাকবে। সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও সুনির্দিষ্ট রংয়ের ব্যাজ থাকবে। হাসপাতালের সুরক্ষা বৃদ্ধিতে আমরা অবাঞ্ছিত মানুষের প্রবেশ বন্ধ করতে চাই। শুক্রবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পার্কসার্কাসের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এর অধ্যাপক জিষ্ণু বসু, রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন এনএমও’র নেতা অমিত বেরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক শিক্ষকদের বদলি পদোন্নতি নীতিতে আমরা প্রচুর পরিবর্তন আনছি। দিন দুয়েক আগেই বেশ কিছু চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। অনেকেই ভাবছেন, তাঁদের বোধহয় চিরতরে বদলি করা হল। আমরা নীতি তৈরি করছি, যাঁর বদলির জায়গা যত ডিফিকাল্ট বা কাজের পরিবেশের দিক থেকে কঠিন হবে, তার ফিরে আসার সময়ও তত কমবে। দূরবর্তী জায়গায় বদলিতে কমবেশি ২ বছর পর ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা রাখতে ইন্টারিভিউ বোর্ডে দেশের বিভিন্ন এইমস-এর অধিকর্তাদের রাখার কথাও জানান তিনি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য আজ শনিবার সন্ধ্যায় ইন্টারভিউ হবে। এদিকে এদিন দুপুরে সিনিয়র রেসিডেন্টদের কাউন্সেলিং নিয়ে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসক সংগঠনগুলির বক্তব্য শোনেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়েছিলেন অনিকেত মাহাতের মতো জুনিয়র চিকিৎসক নেতা সহ অনেকেই। এদিন অনিকেত মাহাত স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বেশকিছু প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সুপি চিকিৎসকদের বিভিন্ন জেলা, মহকুমা, ও গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে কাজে লাগানো যেতে পারে। যে সিনিয়র ব্যাচের তিন বছরের বন্ড শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁদের পুণরায় কাজের সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকে পড়াশোনা করে বহু সিনিয়র রেসিডেন্ট রাজ্যে ফিরছেন। তাঁদেরকে বিভিন্ন জায়গায় নিযুক্ত করা হোক। এদিকে, এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অভয়ার বিচার, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতি ও থ্রেট কালচার বন্ধ করা, স্বচ্ছ কাউন্সেলিং, নিয়োগ সহ মোট ছ’দফা দাবিতে চিঠি দিয়েছে মেডিকেল সার্ভিস সেন্টারের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি।



