Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

সীতাকুণ্ডের শীতল প্রস্রবণ

সীতাকুণ্ডের শীতল প্রস্রবণ
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পৌরাণিক কাহিনি আর বাস্তবের নানা অভিজ্ঞতা। বছরের পর বছর ধরে চোখের সামনে দেখা এমন অনেক কিছুই পুরাণ বা মহাকাব্যের নানা চরিত্র বা গল্পকথার সঙ্গে মেলে। দেশের নানা প্রান্তে এভাবেই লুকিয়ে আছে রাম, সীতা, হনুমান থেকে শুরু করে ভীম, দুর্যোধন, অর্জুন বা দ্রৌপদীর অস্তিত্ব। কাল্পনিক সেই স্মৃতিকে আঁকড়ে হয়তো শ’খানেক বছর আগে গড়ে উঠেছিল কোনও এক মন্দির। শুরু হয় পুজো। কালের নিয়মে আমরাও সেই বিশ্বাসকেই আগলে বেঁচে আছি। রাম-সীতার বনবাসের এমনই সাক্ষী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে গড়ে ওঠা বাগান্ডি গ্রাম। রাস্তা থেকে চোখ মেললে দূরে ছোট-বড় টিলার সারি। আর মেঠো পথ বেয়ে নীচে নেমে গিয়েছে এবড়োখেবড়ো রাস্তা। ভরা বর্ষায় ওই পথ বেয়েই যে তীব্র গতিতে জল নামতে থাকে, তার ভাঙা ভাঙা রূপরেখা স্পষ্ট। সেই আঁকাবাঁকা ঢালু পথে নীচে নামলেই রয়েছে সীতাকুণ্ড। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে মিষ্টি জল। জনশ্রুতি, ১৪ বছরের বনবাসে কয়েকদিনের জন্য অযোধ্যা পাহাড়ে এসেছিলেন রাম-সীতা। তীব্র গরমে একবার সীতার জল তেষ্টা পায়। তখনই রাম তীর ছুড়ে মাটি ভেদ করে ঠান্ডা জল উপরে নিয়ে আসেন। সেই থেকেই এই জায়গায় তৈরি হয় প্রস্রবণ। ভরা গ্রীষ্মে এলাকার নানা জলাশয় পুরোপুরি শুকিয়ে গেলেও সীতাকুণ্ড কখনও শুকোয় না। সারা বছর এইভাবেই সেখান থেকে জলের বুদবুদ উঠতে থাকে।

Advertisement

ত্রেতাযুগের সেই কাহিনি আজও বিশ্বাসে ভর করে বুকে নিয়ে বেড়াচ্ছেন অযোধ্যার আদিবাসীরা। বৈশাখী পূর্ণিমায় পাহাড়ে শিকার উৎসব পালিত হয়। সকলে সীতাকুণ্ডের জল পান করে জঙ্গলে যান। বছর পঁচিশ আগে সীতাকুণ্ডের কাছেই তৈরি করা হয়েছে একটি রামমন্দির। এলাকার মানুষ সেখানে নিত্য আরাধনা করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ