নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতে মাছের আড়তদারদের কমিটির ‘দখল’ নিয়ে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল তীব্র আকার নিল। বুধবার বিকালে চাঁপাডালি মোড় সংলগ্ন মাছের আড়তে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মারামারিতে জখম হন বেশ কয়েকজন আড়তদার। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারাসত থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর কমিটির কাজকর্ম আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
বারাসতের চাঁপাডালি মোড় সংলগ্ন যশোর রোডের ধারে শহরের বৃহত্তম মাছের আড়তটি অবস্থিত। এখানে কয়েকশো আড়তদার ব্যবসা করেন। প্রত্যক্ষভাবে আড়তের উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ। তৃণমূলের আমলে আড়তদারদের কমিটি ছিল শাসকদলের নিয়ন্ত্রণে। রাজ্যে পালাবদলের পর কমিটি পরিবর্তন হয়। বর্তমানে কমিটি বিজেপির দখলে। এর সাধারণ সম্পাদক মানস দাস। তিনি বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সদ্য প্রাক্তন সভাপতি রাজীব পোদ্দারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই কমিটির দখল নিয়ে আড়তদারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিজেপির অন্যগোষ্ঠীর নেতা রাজা সাহানির ঘনিষ্ঠদের মধ্যেও এই নিয়ে ক্ষোভ ছিল। বুধবার বিকালে সেই বিবাদই সংঘর্ষের চেহারা নেয়। অভিযোগ, কমিটি দখল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বচসা হয়। পরে তা হাতাহাতিতে পরিণত হয়।
আড়তদার সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, পালাবদলের পর বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে কমিটি গঠিত হয়েছিল। এই কমিটি ভালো কাজ করছে। কিন্তু কমিটি দখলের জন্য দলেরই এক গোষ্ঠীর লোকজন আমাদের মারধর করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রাজা সাহানি বলেন, মৎস্য আড়তদার সমিতির কমিটি পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছিল। ৪ মে’র পর তৃণমূল থেকে আসা লোকজনই গন্ডগোল করেছে। পুলিশ আপাতত কমিটির কাজ স্থগিত রাখতে বলেছে। আমার বিরুদ্ধে অযথা ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র



