


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা হরিশ্চন্দ্রপুর: সিভিক ভলান্টিয়ারদের ‘দাদাগিরিতে’ জখম এক গাড়ির চালক। অভিযোগ, দাবিমতো তোলা না পেয়ে ওই চালককে জোর করে ক্যাম্পে ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন তিন সিভিক ভলান্টিয়ার। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এনিয়ে মালদহ জেলা পুলিসও অস্বস্তিতে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ভিডিও। যদিও ‘বর্তমান’ ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি। ঘটনায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আক্রান্ত চালক। প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন সিভিককে পুলিস লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব।
পুলিস সুপার বলেন,তদন্ত শুরু হয়েছে।সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলার সময় তাঁরা ডিউটিতে থাকবেন না। এমনকী অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আক্রান্ত পিকআপ ভ্যান চালক রুহুল আলি বলেন, বিহারের মল্লিকপুর হাট থেকে ভাড়ায় ব্যবসায়ীদের গোরু ডাঙ্গিলা গ্রামে নিয়ে আসছিলাম। হরিশ্চন্দ্রপুর নাকা পয়েন্টে তিন সিভিক ভলান্টিয়ার আমার গাড়ি আটকান। তখন কোনও পুলিস আধিকারিক ছিলেন না। কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়াররা আমার কাছে ১০০০ টাকা দাবি করে। আমি ৫০০ টাকা দিতে চাইলে তাঁরা তা নিতে অস্বীকার করেন। এনিয়ে আমার সঙ্গে তর্ক হয়। গাড়ির মালিক সাহির আলম সঙ্গেই ছিলেন। তাঁর সামনেই আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাকা পয়েন্টের ঘরের ভিতর ঢুকিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। আমার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লেগেছে।
এই ঘটনা সম্পর্কে পুলিস জানিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার বাংলা-বিহার সীমানার ভালাবাড়িতে পুলিসের নাকা চেকিং পয়েন্ট আছে। এটি মালদহের অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ এখানে অভিযুক্ত তিন সিভিক ভলান্টিয়ার কর্তব্যরত ছিলেন। সেই সময় একটি পিকআপ ভ্যান নাকা চেকিং পয়েন্টের দিকে প্রচণ্ড গতিতে আসছিল। সিভিক ভলান্টিয়াররা গাড়িটিকে দাঁড় করালে চালকের সঙ্গে বচসা হয়। কর্তব্যরত সিভিকরা চালককে আটক করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
গাড়ির মালিক সাহির আলম বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার সিভিকরা গাড়ি আটকে টাকা আদায় করেন। এদিন মাত্রাতিরিক্ত টাকা দাবি করেছিলেন। দিতে অস্বীকার করায় গাড়ির চালককে মারধর করে। আমি প্রতিবাদ করতেই মারতে আসে। পুলিস ও সিভিকের অত্যাচারে গাড়ি চালাতে পারছি না। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান আক্রান্ত গাড়ি চালক। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।